গণভোটের গণরায়কে প্রত্যাখান করে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ছয় মাসে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬৭০টি বিএনপি ঘটিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, সরকার গণভোটের গণরায়কে প্রত্যাখান করে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে।
তিনি বলেন, গত ছয় মাসে ১৯ থেকে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৬৩ জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে দলীয় লোকদের। এসব জায়গায় মনোনয়ন বঞ্চিত এবং নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করেছে বিএনপি।
তিনি আরো বলেন, সরকার আসার পরই ভয়াবহ জ্বালানি তেল সঙ্কট শুরু হয়েছিল। সে সময় জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। এতে গণপরিবহন, সেচ, সারসহ সব খাতে প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে গ্যাস চাহিদার ৪৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। ঢাকা শহরে চুলা জ্বলছে না। শিল্প কারখানার উৎপাদন কমেছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, গ্যাস সঙ্কটের কারণে ক্রয়াদেশ চলে যাচ্ছে। সরকার অঙ্গীকার করেছিল ক্ষমতাগ্রহণের দুই বছর বিদ্যুৎতের দাম বাড়াবে না। কিন্তু দুই মাসেই দাম বাড়ালো। এছাড়া লোডশেডিং, ভুতুড়ে বিল আসছে। ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে সময় একটা জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই সুপারিশ মানা হচ্ছে না। বর্তমানে কোনো সঙ্কট হলে হয় ফ্যাসিস্ট না হয় অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। অথচ এর চাইতে খারাপ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল।
তিনি বলেন, কৃষক সার পাচ্ছে না। বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। স্বাস্থ্যখাতে হাম মহামারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছে, কিন্তু সঙ্কট এখনো কাটেনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল গঠন করা হয়নি। শিক্ষাঙ্গন দখল করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিরোধী মতাদর্শের ওপর হামলা হলেও কোনো বিচার হয়নি।



