বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, ‘ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের রুখতে পেশাজীবীদের ভূমিকা রাখতে হবে।’
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে মহানগরী কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে প্রকৌশলীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে পেশাজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে জাতি যখন নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখছে, তখন একটি দল সারাদেশে দুর্নীতি, লুটপাট, দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে জাতিকে হতাশ করছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে, ওই দলের নেতারা মিডিয়ার সামনে যা বলেন, বাস্তবে তার বিপরীতটাই করেন। যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন-গুম ও লুটপাটে জড়িত, জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমেই বয়কট করবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সাথে যেভাবে পেশাজীবীরা ভূমিকা রেখেছেন, আগামী নির্বাচনে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস রুখে দিতে একইভাবে সক্রিয় হতে হবে। রাষ্ট্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকৌশলীদের হাত ধরেই হয়। তারা যদি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের প্রভাবমুক্ত থাকেন, তবে দুর্নীতিরোধ সম্ভব। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে কোনো পেশাজীবীকে এক পয়সাও চাঁদা দিতে হবে না। ফলে দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব হবে।’
জুলাই সনদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর (জুলাই সনদ) আইনি ভিত্তি না দিলে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বহাল থাকবে এবং নতুন করে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটবে। ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ করতে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিকল্প নেই।
পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই (পিআর) পদ্ধতিতে প্রতিটি ভোটের মূল্যায়ন হয়। বর্তমান পদ্ধতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়, ফলে বিপুলসংখ্যক ভোট মূল্যায়িত হয় না।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী ১ লাখ ভোট পেলে অন্য প্রার্থী ১ লাখ ১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলে, ১ লাখ ভোটের কোনো মূল্যায়ন থাকে না। কিন্তু পিআর পদ্ধতিতে সারাদেশের গড় ভোট অনুযায়ী দল সংসদে আসন পায়, ফলে প্রতিটি ভোটের মূল্যায়ন নিশ্চিত হয়। এতে কোনো দল একক কর্তৃত্ব কায়েম করতে পারে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হয়।
তিনি পেশাজীবীদের উদ্দেশে বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হতে হবে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন।
এছাড়া ইঞ্জিনিয়ার মুনিরুজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলামসহ প্রকৌশলী নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াতে ইসলামীর মহানগরীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি



