ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জাতীয় ঐকমত্য, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের প্রশ্নমালার বৈধতা নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) অধিবেশনে আখতার হোসেন বলেন, ‘সরকারি দলের এক সদস্য গণভোটের চারটি প্রশ্নের প্রসঙ্গ তুলে পরোক্ষভাবে বিরোধী দলকে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। এটা বিভ্রান্তিকর। তার মতে, বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকা অবস্থায় গণভোটের প্রশ্ন নির্ধারণে একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত দেননি; বরং বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’
ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যখন গণভোট আয়োজন করেন, তখন সেখানে ১৯টি দফা ছিল। একইভাবে খালেদা জিয়া সংবিধান সংশ্লিষ্ট গণভোটে ১৬টি পয়েন্ট অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।’
তখন প্রশ্নের সংখ্যা নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণভোটের প্রশ্ন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ নেই; বরং প্রশ্ন না পড়ে ভোট দেয়ার অভিযোগ তুলতে গেলে তা সংশ্লিষ্টদের দুর্বলতা হিসেবেই বিবেচিত হবে।’
এর জবাবে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ইতিহাসের সঠিকতা রক্ষার স্বার্থে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়নের ক্ষেত্রে ঐকমত্য কমিশনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সব পক্ষের মতামত নিয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো, যেখানে ভিন্নমত থাকলেও তা নথিভুক্ত করার সুযোগ ছিল। পরবর্তীতে সময়ে ‘জুলাই বাস্তবায়ন আদেশ’ যুক্ত হওয়ার সময় তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি তুলেছিলেন এবং তার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছিলেন।’
জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তখনকার গণভোট ছিল সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত একটি দাবিনামা, যা পরে সংসদে পাস হয়ে গণভোটে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান জুলাই জাতীয় সনদ জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে হওয়ার কথা থাকলেও সেটিকে চারটি প্রশ্নে সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ঐকমত্য হয়েছে কি না—সেটিই বড় প্রশ্ন।’ তার দাবি, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়নি।
বিতর্কের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তা নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটি জাতীয় সংসদ; এখানে সবারই বক্তব্য দেয়ার অধিকার রয়েছে, তবে মতভেদ থাকলে তা যুক্তির মাধ্যমে খণ্ডন করতে হবে।’
তাদের এই বিতর্কের মধ্যেই আজ বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পিকার।



