খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে কৃষিতে বাজেট বৃদ্ধির আহ্বান রিজভীর

রুহুল কবির রিজভী খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে জাতীয় বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়ানো, আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনলাইন প্রতিবেদক
বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী
বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী |নয়া দিগন্ত

জাতীয় বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং দেশের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘বাজেট ২৬-২৭ ; কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান এখনো কৃষিকে কেন্দ্র করে। তাই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে কৃষিখাতে বাজেট বৃদ্ধির পাশাপশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।

প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা গ্রামীণ অর্থায়নে একটি বড় ভূমিকা রাখবে।

তবে সামগ্রিক বাজেট ১৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও সেই তুলনায় কৃষিখাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ মূল্যস্ফীতির নিরিখে খুব বেশি নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অর্থনীতিতে কৃষির অবদান আরো দৃশ্যমান করতে এই বরাদ্দ ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করার তাগিদ দেন রুহুল কবির রিজভী।

দেশের পচনশীল ফসল সংরক্ষণে আধুনিক হিমাগার প্রযুক্তির অভাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আলু ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মৌসুমে কখনো সিন্ডিকেটের কারণে, আবার কখনো সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়। ভিয়েতনাম আমাদের দেশ থেকে এবার আলু নিচ্ছে এবং আরো বড় বাজারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক মানের হিমাগার প্রযুক্তি আমদানি করে দেশের উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে দ্রুত স্থাপন করা প্রয়োজন।’

একইসাথে আদা, রসুন ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দেন তিনি।

নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের মতো উন্নত দেশের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ভারী শিল্পের কাঁচামালের অভাব থাকলেও দেশীয় কৃষিপণ্যের ওপর ভিত্তি করে বড় বড় অ্যাগ্রো-বেজড ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা সম্ভব। দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চশিক্ষিত গবেষক ও সাইন্টিফিক অফিসারদের মেধা সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান রিজভী।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, কৃষিখাত দুর্বল হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। সরকারের মূল্যস্ফীতি ৬-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে কৃষির সব উপখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই রূপান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ভিশনগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের আরো নজর দেয়ার অনুরোধ জানান রিজভী।