বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘পার্লামেন্টে সংবিধান সংস্কার না হলে এ সমস্যার সমাধান রাজপথেই হবে।’
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে শুধুমাত্র সংশোধনের কথা বলা জাতির সাথে প্রতারণার শামিল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় শ্রমিক সমাবেশে
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো: তসলিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিবেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ রিকশা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খাঁন, বাংলাদেশ কৃষি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কবির আহমদ, বাংলাদেশ স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা মুহিবুল্লাহ, বিআরইএলের সভাপতি আক্তারুজ্জামান, বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল আমিন, কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, কেন্দ্রীয় পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক জামিল মাহমুদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আবু রায়হান এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ এইচ এম আতিকুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের পথ উন্মোচিত হয়েছে।’ তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আহতদের সুস্থতা ও তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া কামনা করেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের কনিষ্ঠ শহীদ জাবের ইব্রাহিম, আনাস ও মেহেদী হাসানসহ যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না, তারা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই চেতনাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করা উচিৎ।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি হওয়া আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
তার দাবি, গণভোটে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে মত দিয়েছেন। এখন যদি সেই গণরায় অস্বীকার করা হয়, তাহলে তা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘একই ভোটে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে একটি মেনে অন্যটি না মানার সুযোগ নেই। পার্লামেন্টে সংবিধান সংস্কার না হলে এ সমস্যার সমাধান রাজপথেই হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের মধ্যে শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা অঙ্গহানি নিয়ে বেঁচে আছেন, তারা এখনো বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের নম্রতাকে দুর্বলতা মনে করলে ভুল হবে।’ তিনি ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, পাঁচ মাসের সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে পারেনি। সাড়ে ১২ হাজার টাকা মুজুরি দিয়ে শ্রমিকরা পরিবার চলতে পারেন না। শ্রমসংস্কারের কথা ভুলে ফ্যামিলিকার্ডের মুলা ঝুলিয়েছেন, শ্রমিক জনতা তা মানবে না। অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে রাজপথে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।



