রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ডাকসু নেতাদের শারীরিক খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে এসেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্য নেতারা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা: মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিক্যাল সেন্টারে যান তারা। এ সময় আহত ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জোবায়ের, মাস্টারদা সূর্য সেন হল সংসদের সদস্য মো: সাইয়েদুজ্জামান নূর আলভী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিমুল ইসলামের শারীরিক খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের পরিচয় যাই হোক তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে।’
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, থাকতে পারে না। যদি সরকার এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করে তবে প্রমাণ হয় সরকার সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশয় দাতা।’
শাহবাগ থানা পুলিশ সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি শাহবাগ থানার ওসিসহ ঘটনার সময় থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা কোনো ছোটখাটো ঘটনা নয়। এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে জড়িত প্রত্যেকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একটি ফেইক নিউজকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্রকে হুমকি দেয়া হয়েছিল। সে হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ওই ছাত্র তার দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করতে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তার জিডি না নিয়ে তাদেরকে থানার ভেতরে দেড় ঘন্টা বসিয়ে রাখে ও পরে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা থানায় এসে পুলিশের উপস্থিতিতে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা চালায়।’
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালিয়ে ১২ জন সাংবাদিককে আহত করে। যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত করার সামিল।’
তিনি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা মহানগরী পূর্ব সেক্রেটারি ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, পল্টন থানা আমির অ্যাডভোকেট মারুফুল ইসলাম, শাহবাগ পশ্চিম থানা আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হকসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।



