ভাষা দিবসের আলোচনা সভায় সেলিম উদ্দিন

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নতুন সরকার ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে

রাজধানীতে মহান ভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন জাতি হিসেবে আমাদের জন্য গর্ব ও প্রেরণার উৎস।’ তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন সরকার নানা ধরনের ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রাজধানীতে মহান ভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন জাতি হিসেবে আমাদের জন্য গর্ব ও প্রেরণার উৎস।’ তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন সরকার নানা ধরনের ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের বসুন্ধরা থানা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

থানা আমির আবুল বাসারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইউসুফের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা। এ সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১১ সালে রংপুর শিক্ষা সম্মেলনে নবাব আলী চৌধুরী প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন। ১৯১৮ সালে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দিকে ভারতের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। পরবর্তীতে ১৯৩৬ সালে মাওলানা আকরাম খাঁ একই দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৪৬ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে ড. শহীদুল্লাহ এর প্রতিবাদ জানান। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও লিয়াকত আলী খান উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে ছাত্রসমাজ আন্দোলনে নামে।

তিনি ভাষা আন্দোলনে অধ্যাপক গোলাম আযমের অবদানের কথাও উল্লেখ করে বলেন, ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে তিনি একাধিকবার গ্রেফতার ও চাকরিচ্যুত হন। তার অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ নতুন দিশা পেলেও সদ্য ক্ষমতাসীনদের কর্মকাণ্ডে নতুন সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’ তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাও উল্লেখ করেন। প্রায় ১৬ বছর দেশে ‘স্বৈরাচারী শাসন’ চলেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, অন্যথায় ইতিহাস কঠোর বিচার করবে।’