দেশের জন্য শহীদ আবু সাঈদের মতো বুক পেতে দিতে রাজি আছি, কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারো কাছে বন্ধক রাখবো না বলে ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই বিপ্লবে সকল শহীদদের বিচার সবার আগে করা হবে।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুরে শহীদ আবু সাইদের কবর জিয়ারত এবং পরিবারের সাথে দেখা করার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন তিনি। এ সময় তার সাথে সাথে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি সদস্য সচিব ও রংপুর তার আসনের এমপি প্রার্থী আখতার হোসেন, জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, রংপুর-৬ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মো: সিগবাতুল্লাহ প্রমুখ।
ডাক্তার শফিক বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি, শহীদ আবু সাঈদ এবং তার সঙ্গীরা যারা জীবন দিয়ে আমাদেরকে মুক্ত করেছেন, আমাদের ঘাড়ে তারা যে দায়িত্বের বোঝা রেখে গেছেন, আমানতের যে বোঝা রেখে গেছেন, আমাদের জীবন দিয়ে হলেও তাদের সেই আমানত আমরা রক্ষা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।’
ডাক্তার শফিক বলেন, ‘তাদের যে আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা ছিল। একটি দুর্নীতিমুক্ত সন্ত্রাসমুক্ত ফ্যাসিবাদ মুক্ত আধিপত্যবাদমুক্ত দুঃশাসন মুক্ত, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার। যে বাংলাদেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবে এবং যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী, দক্ষতা অনুযায়ী জাতি গঠনে উন্নয়নে অবদান রাখবে। এখানে কোনো ধরনের বৈষম্য হবে না। তারা রাস্তায় নেমে স্লোগান দিয়েছিল উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা সেই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আল্লাহ আমাদেরকে এই কমিটমেন্ট পূরণ করার তৌফিক দান করুক।’
জামাত আমির বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন আমরা কোনো চাঁদাবাজি করিনি, আমরা কোনো দখলদারি করিনি। আমরা কোনো দুর্নীতি করিনি। আমরা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করিনি। আমরা কারো উপর ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রতিশোধ নেয়নি।’
ডাক্তার শফিক বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা চেয়েছি একটি শান্তির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে। আমরা আমাদের জাতিকে বিভক্ত করতে দেব না। এই বিভক্তির অবসান ঘটানোর জন্যই আমরা ১০ দলীয় জোট একত্রিত হয়েছি। দশে মিলে আপনাদের সামনে এসে হাজির হয়েছি। আমরা বাংলাদেশের ৩০০ আসনে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিভিন্ন দল থেকে আমরা প্রার্থী দিয়েছি। এ সময় তিনি সেখানে ১০দলের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিনকে পরিচয় করিয়ে দেন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি জীবন যাবে তবুও মাথা নত করবো না। যেভাবে আবু সাঈদরা বুক চিতে দিয়েছিল। দেশের জন্য ওইভাবে বুক পেতে দিতে রাজি আছি। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারো কাছে বন্ধক রাখবো না। আল্লাহ যেন এই তৌফিক দান করেন। আমরা সবাই মিলে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’
ডা: শফিক বলেন, ‘আমরা চাই অবিলম্বে শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তি দেয়া হোক। এই ব্যাপারে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদদের সকল পরিবারকে আমরা আমাদের মাথার তাজ করে রাখবো এবং এটা বাস্তবে দেখবেন ইনশাআল্লাহ। এটা ঠোঁটের কথা নয় এটা মুখের কথা।’
কবর জিয়ারতের আগে শহীদ আবু সাইদের পিতা মকবুল হোসেনকে জড়িয়ে আবেগাল্পুত হন জামাত আমির। পরে কবর জিয়ারত ও দোয়া শেষে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। এ সময় সেখানে শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং পরিবারটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।



