তারেক রহমান

ধানের শীষ নির্বাচিত হলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়

‘প্রত্যেক পরিবারের প্রধান নারীর কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাতে চাই। কৃষকদের আমরা কৃষি কার্ড দিতে চাই, যার মাধ্যমে তারা সহজে কৃষি ঋণ পাবে। কৃষি বীমা থাকবে। সার ও বীজ তারা পাবে।’

অনলাইন প্রতিবেদক
রাজধানীর ভাষানটেকে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান
রাজধানীর ভাষানটেকে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান |নয়া দিগন্ত

ধানের শীষ নির্বাচিত হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আমরা যদি অতীতের সকল কাজ বিবেচনা করি, তাহলে দেখব ধানের শীষকে যতবার মানুষ নির্বাচিত করেছে, ততবারই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। কাজেই শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছি।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ভাষানটেকে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এলাকাটি ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্ভুক্ত, যা তারেক রহমানের নির্বাচনী আসন। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে এলাকার সমস্যার কথা শোনেন তারেক রহমান। সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে ভাষানটেক বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন করা হবে বলে ওয়াদা করেন তিনি। বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বহু মানুষ প্রতিবছর কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যায়। কিন্তু এই মানুষগুলো দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যায় না। আমরা চাই তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেবো। এই প্রশিক্ষণ পড়ালেখা শেষ হোক বা শেষ হওয়ার আগেই দেবো, যাতে দেশের ভেতরেই হোক অথবা দেশের বাইরে হোক তারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেক পরিবারের প্রধান নারীর কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাতে চাই। কৃষকদের আমরা কৃষি কার্ড দিতে চাই, যার মাধ্যমে তারা সহজে কৃষি ঋণ পাবে। কৃষি বীমা থাকবে। সার ও বীজ তারা পাবে।

তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সমস্যাগুলোর পর্যায়ক্রমে সমাধান করতে হলে অবশ্যই আগামী দিনে বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক এবং মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। মানুষের নির্বাচিত সরকারই মানুষের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন আমাদের দেশ গড়তে হবে, দেশ গঠন করতে হবে। দেশের প্রত্যেকটি সেক্টর বিগত ১৫–১৬ বছরে ধ্বংস হয়েছে। এই ধ্বংসের ফলে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। এগুলোকে আমাদের পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি পুনর্নির্মাণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, এলাকার সমস্যা তার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন। বিগত ১৫ বছরে যারা এমপি ছিলেন, তাদের কাছে আপনার এলাকার সমস্যা নিয়ে যেতে পারেননি। এলাকার সমস্যার সমাধান করতে হলে, দেশের উন্নয়ন করতে হলে, অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের অনেক তরুণ-তরুণীর মধ্যে অনেকে খেলোয়াড় হতে চায়। ক্রীড়া ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে চাই, যাতে ছেলে-মেয়েরা পেশাদার খেলোয়াড় হতে পারে। ক্রীড়ার মাধ্যমে যাতে জীবিকা অর্জন করতে পারে—সেই প্রতিভাবানদের সামনে নিয়ে আসতে চাই।

তিনি আরো বলেন, হাজারো মানুষের জনসভায় আজ আমরা একটি শপথবাক্য পাঠ করি। সেই শপথবাক্যটি হচ্ছে—করব কাজ, গড়ব দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সমগ্র বাংলাদেশের ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে।