বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ না করে রাজপথ বেছে নেয়াকে জনগণ ভালোভাবে নিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ রোববার দুপুরে নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনানুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, বিরোধী দল পার্লামেন্টে ভালো কথা বললেও বাইরে এসে ব্যতিক্রমী ভাষায় কথা বলে। শেখ হাসিনার আমলে তলানিতে থাকা রিজার্ভ বর্তমান সরকারের আমলে বেড়ে আড়াই গুণ হয়েছে জানিয়ে সরকারকে ভুলত্রুটি ধরে না দিয়ে বিরোধী দল গণবিরোধী কাজ নিয়ে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ছয় মাস যেতে না যেতেই বিরোধী দল লংমার্চ এবং নানা ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছেন- এই সরকার তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কী কাজগুলো করছে, সে কাজগুলোকে ঊর্ধ্বে তুলে না ধরে বা কাজগুলোর একটা গঠনমূলক সমালোচনা না করে বিরোধী দল হিসেবে শুরু করেছেন রাজপথে উপস্থিতি দেখানো। তো এটা জনগণ ভালোভাবে নিচ্ছে না, ভালোভাবে দেখছে না।
তিনি আরো বলেন, গ্যাস এবং জ্বালানি নিয়ে যদি বিকল্প কোনো প্রস্তাব বিরোধী দলের থাকতো, তাহলে সেটা পার্লামেন্টে আলোচনা করতেন যে এইভাবে আমরা করতে পারি, এইভাবে সরকারের করা উচিত, এই হচ্ছে আমাদের বিকল্প প্রস্তাব। তারা ডাটা-স্ট্যাটিস্টিকস দিয়ে বা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে, কোন পথ দিয়ে কিভাবে জ্বালানি আনা যায়- সেটা নিয়ে উনারা কিন্তু কোনো কথা বলেননি। দায়িত্বশীল বিরোধী দল উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে কথা বলে, তারা সেভাবে বলেননি। বরং প্রথমেই তারা স্ট্রিট ফাইটিংয়ে নেমে পড়ছেন বা এ ধরনের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।
রিজভী বলেন, যে কেউ কঠোর সমালোচনাও করতে পারেন; কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে অশ্রাব্য, কুশ্রাব্য, অশ্লীল কথা যারা বলছে, তাদেরকে বিরোধীদল প্রশ্রয় দিচ্ছেন, তাদের সমর্থন দিচ্ছেন। সরকারের বিরুদ্ধে, এমনকি সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে নোংরা কথা বলছে। কারো বিরুদ্ধে বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে নোংরা কথা বলা কিন্তু অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে যে আইনি ব্যবস্থা, সে আইনি ব্যবস্থাকে তারা সমর্থন না দিয়ে বরং যে গ্রেফতার হয়েছে, তাকে ছেড়ে দিতে বলছে। এর মানে কী? অন্যায়কে, অবৈধ পন্থাকে এবং সমাজ যাতে ঘৃণা ও অসভ্য কথায় ভরে যায়- তাকে তারা প্রশ্রয় দিচ্ছে, সমর্থন দিচ্ছে। এটা খুবই নিন্দনীয় কাজ বলে মনে করেন তিনি।
বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যেটা সঠিক গণতান্ত্রিক পন্থা- আপনারা পার্লামেন্টের ভেতরে কথা বলবেন। পার্লামেন্টের বাইরেও আপনারা কর্মসূচি করতে পারেন, আলোচনা করতে পারেন, সভা-সমাবেশ করে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারেন, তাতে সরকার আরো সতর্ক হবে। আপনাদের ভুলত্রুটি দেখানোর বদলে আপনারা ভিন্ন পন্থা নিয়েছেন, যা আমাদের গণতন্ত্রের কাঠামো বা গণতন্ত্রের যে চারাটি জেগে উঠছে, তাকে বিনষ্ট করার একটা প্রচেষ্টা আপনারা নিচ্ছেন বলে মনে করেন রিজভী।
তিনি বলেন, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ তলানিতে চলে গিয়েছিল, হাসিনার সেই রিজার্ভ এখন আড়াই গুণ বেড়ে গেছে। এই সরকার কি কাউকে বলেছে টাকা পাচারের কথা, দুর্নীতির কথা? আপনাদের ওই রিজার্ভ ভাঙিয়ে মেগা প্রজেক্টের কথা বলে টাকা পাচারের ঘটনা তারেক রহমানের আমলে তো হয়নি। সুতরাং, এই যে ইতিবাচক দিকগুলো- এই ইতিবাচক দিকগুলোকে বা সরকারের বিভিন্ন খাতে যে ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো হচ্ছে, উন্নয়ন ও উৎপাদনের যে সূচকগুলো আমরা দেখছি উপরের দিকে উঠছে, সেগুলোকে ঢেকে রাখার জন্য এই লংমার্চ বা এই ধরনের কর্মসূচি তারা নিয়েছেন। এবং তারা একটা খুব গণবিরোধী চরিত্র নিয়েই এই কথাগুলো বলছেন, এই কাজগুলো করছেন এবং অন্যায়, বেআইনি ও অশ্লীলতাকে তারা প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যেখানে যত প্রকার বন্যার ও বিলবোর্ড রয়েছে, নেতাকর্মীদের সেগুলো সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানান রিজভী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন, আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডা: জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।



