বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী দোসরদের সম্মিলিত নির্যাতনেই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়েছিল।
মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করে তিনি বলেছেন, ‘তার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। এটি ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের শারীরিক ও মানসিক নির্মম নিপীড়নমূলক দুঃশাসনের ফল।’
তিনি আরো বলেছেন, ‘মরহুম আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতি করতেন না। তিনি ছিলেন একজন ক্রীড়া সংগঠক। কিন্তু তার মৃত্যুর কারণ ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নমূলক দুঃশাসন।’
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দলটির উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যিনি গোটা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন- সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকো পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। তার এই মৃত্যু ছিল অকাল মৃত্যু, স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। ফ্যাসিবাদ এবং তাদের দোসরদের সম্মিলিত নিপীড়ন-নির্যাতনের ফলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
তিনি স্মরণ করেন, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দমনের জন্য শেখ হাসিনা সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয়ে চারদিক থেকে বালির ট্রাক ও কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় আমার চোখে গোলমরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করা হয় এবং পেয়ারা গাছের ধোঁয়ার মধ্যে শ্বাসরোধের ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
রিজভী বলেন, এই নিপীড়নের পৈশাচিক রূপ সুদূর মালয়েশিয়া থেকে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো প্রত্যক্ষ করছিলেন। তিনি তখন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মায়ের ওপর চালানো নির্যাতনের বীভৎস দৃশ্য দেখে তিনি নিজেকে সামাল দিতে পারেননি এবং দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আরো বলেন, কোকোর লাশ যখন দেশে আসে বিএনপি নেতাকর্মীরা তখন পুলিশের হুলিয়ার মধ্যে ছিলেন। টেলিভিশনে তারা দেখেছেন, সন্তানের লাশ কোলে নিয়ে বসে আছেন বেগম খালেদা জিয়া। শোক জানাতে যাওয়া বিএনপি নেতাকর্মী তো বটেই, দেশের বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, চিকিৎসক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের বিরুদ্ধেও মামলা দেয়া হয়।
রিজভী উদাহরণ দিয়ে বলেন, খ্যাতিমান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ গুলশান কার্যালয়ে শোক জানিয়ে বাসায় ফেরার আগেই তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দেয়া হয়েছিল। এটি ছিল ফ্যাসিবাদের লোমহর্ষক অত্যাচারের নিদর্শন।
তিনি বলেন, অনেক রক্তস্রোত ও ত্যাগের বিনিময়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ এই দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
রিজভী বলেন, যারা জনগণের নেতা ও জনগণের ওপর নিপীড়ন চালায়, তাদের শেষ পরিণতি পালিয়ে যাওয়া। ৫ আগস্ট তার প্রমাণ। এটি প্রকৃতির নিয়ম এবং আল্লাহর বিধান কোনো অত্যাচারীকে আল্লাহ সহ্য করেন না।
এ সময় রুহুল কবির রিজভী কোকোর রূহের মাগফেরাত কামনা করেন। দোয়া মাহফিলে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস



