সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের জেরে অ্যাক্টিভিস্ট হাসান নাসিমকে ডিবি পরিচয়ে বাসা থেকে তুলে নেয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, সরকারের অসংগতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখালেখি করার কারণে বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে ডিবি পুলিশ কর্তৃক তুলে নিয়ে যাওয়া সমগ্র জাতির মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।
হাসান নাসিমকে ১৭ এপ্রিল নিজ বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো মামলা বা আইনি ভিত্তি ছাড়াই এ ধরনের আটক সরাসরি আইনের শাসনকে উপহাসে পরিণত করে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার, এটি দমন করার যে কোনো প্রচেষ্টা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শামিল।
বাসা থেকে তুলে নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড, গুম সংস্কৃতির পুনরুত্থান, ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পুনর্জাগরণ এবং জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য লজ্জার, একই সাথে আতঙ্কের।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এই ধরনের ঘটনা দেশের মানুষের মনে ফ্যাসিবাদী হাসিনার অন্ধকার সময়ের ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনে, যখন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করতে গুম, নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত কর্তব্যে পরিণত করা হয়েছিল। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের নয়া গণতান্ত্রিক যাত্রার শুরুতেই সরকারের সমালোচনা অপরাধে রূপান্তর করা ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, সরকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছে আমাদের আহ্বান; হাসান নাসিমকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
এই ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের যে-কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে এবং ন্যায়ের পক্ষে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।



