সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে : প্রধানমন্ত্রী

‘কিছুদিনের মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন যে, মানুষ শহীদ জিয়া বা বাংলাদেশ বললে দুটোকে একসাথেই বুঝত।’

অনলাইন প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |নয়া দিগন্ত

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের সামনে প্রথমত একটি অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে, একই সাথে অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময় আমাদের হেসে-খেলে চলে গেলে হবে না। এতে দেশের ক্ষতি হবে, ক্ষতি হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।’

রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

আলোচনা সভায় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হেনরি কিসিঞ্জার (যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী) বলেছিলেন, দেশ স্বাধীনের পরে, দুর্ভাগ্যজনক দুর্ভিক্ষের পরে, ‘বটমলেস বাস্কেট’। মাত্র কিছুদিনের মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, দেশকে বিশ্ব দরবারে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন যে, মানুষ শহীদ জিয়া বা বাংলাদেশ বললে দুটোকে একসাথেই বুঝত।’

নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত ১২ তারিখের নির্বাচনের পরে আপনাদের দল সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু গত ১৭ বছরে কী হয়েছে, তার জীবন্ত সাক্ষী কিন্তু এখানে উপস্থিত প্রত্যেকটি মানুষ। কিভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল? কিভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে? কিভাবে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার ব্যবস্থা— সকল কিছুকে ধ্বংস করা হয়েছে, তার কম-বেশি জীবন্ত সাক্ষী আপনারা এখানে উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষ, এখানে যারা অনলাইনে কানেক্টেড আছেন প্রত্যেকটি মানুষ, রাজনৈতিক দলের সদস্য ছাড়াও কম-বেশি সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষসহ প্রত্যেকটি মানুষ এর জীবন্ত সাক্ষী। বর্তমান সরকার এরকমই একটি বিধ্বস্ত অবস্থার ভেতর দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ কোন গাছে ঢিল মারে? আম গাছে মারে, লিচু গাছে মারে, জাম গাছে মারে— যে গাছে ফল আছে, অর্থাৎ যে দিতে পারে। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশাও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কাছে— যে দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গঠন করে দিয়ে গেছেন, যে দলকে জনগণের ভেতরে ভিত্তি স্থাপন করিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সেই দলের কাছেই মানুষ প্রত্যাশা করে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসদের যে ২১৪ জন এমপি, আমাদের যে ৫০ জন— আমিসহ ৫০ জন যে ক্যাবিনেট সদস্য আছেন, আমরা শুধু পরিশ্রম করলেই কিন্তু কার্যক্রমটি সফল হবে না। আপনাদের সকলের সহায়তা প্রয়োজন হবে। আপনারা প্রত্যেকটি মানুষ, দেশের সারাদেশের আনাচে-কানাচে আমাদের বিএনপি বলুন, যুবদল বলুন, ছাত্রদল বলুন, স্বেচ্ছাসেবক দল বলুন, মহিলা দল বলুন, আইনজীবী ফোরাম বলুন, জিয়া পরিষদ বলুন, শ্রমিক দল বলুন— অর্থাৎ আমাদের মূল দলসহ প্রত্যেকটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে, উপজেলায়, পৌরসভায়, বিভাগীয় শহরে যেখানেই বলুন না কেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের আগে যেভাবে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এই দলকে আপনারা জিতিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন, ঠিক জিতিয়ে আনার পরেই কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যায়নি। বরং আমাদের সেই অক্লান্ত পরিশ্রমকে এখন আবারো কন্টিনিউ করতে হবে। একটি নির্বাচনের মাধ্যমে যেমন আমরা জয়ী হয়ে এসেছি, ঠিক একইভাবে আমাদের কাজগুলো, আমাদের লক্ষ্যগুলো সফল করার মাধ্যমে একটি সফল সরকার আমাদেরকে হতে হবে। জনগণের দৃষ্টিতে যদি সফল সরকার হতে হয়, তাহলে অবশ্যই শুধুমাত্র ২১৪ জন এমপি বা ৫০ জন ক্যাবিনেট মেম্বারের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়, যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সকল নেতাকর্মী এই কর্মসূচিগুলোকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, এই কর্মসূচিগুলোকে সাকসেসফুল করার জন্য মাঠে-ময়দানে নেমে কাজ করতে পারবেন বা করবেন, তখনই শুধুমাত্র সেটি সম্ভব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণকে সাথে নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমরা একটি সফল আন্দোলন করেছিলাম। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা একটি সফল নির্বাচন পার হয়ে এসেছি, আলহামদুলিল্লাহ। আসুন, আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি, যেই ম্যানিফেস্টোর পক্ষে বাংলাদেশের মানুষ রায় দিয়েছে, সেই ম্যানিফেস্টোকে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে একটি সফল সরকারের কার্যক্রম যাতে আমরা শেষ করতে পারি। তাহলেই আমরা একমাত্র ৩০ মে-তে শহীদ জিয়ার প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে সক্ষম হব বলে আমি বিশ্বাস করি।’