সংবিধানে নির্বাচন কমিশন অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে ঐকমত্যে দলগুলো : ডা: তাহের

‘কমিশন গঠনের পাশাপাশি কমিশনারদের আচরণবিধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে।’

অনলাইন প্রতিবেদক
ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের
ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের |সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠনের প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আজকের আলোচনা অত্যন্ত গঠনমূলক ও ইতিবাচক ছিল। অনেক মত পার্থক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই একমত হয়েছি যে নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং এটির গঠন একটি সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে হবে।’

বুধবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৮তম দিন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা: তাহের জানান, পাঁচ সদস্যের একটি সিলেকশন কমিটি গঠন করা হবে যার সদস্যরা হবেন-স্পিকার (সভাপতি), বিরোধীদলীয় মনোনীত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলের নেতা এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন আপিল বিভাগের বিচারক। এই কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের মনোনয়ন দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে এবং রাষ্ট্রপতি সেই নাম অনুযায়ী নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকবেন।

তিনি বলেন, ‘এখানে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব মতামতের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এই অংশে আমরা একটি গঠনমূলক এবং সম্মানজনক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন গঠনের ভিত্তি তৈরি করতে পেরেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগে নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও চারজন কমিশনার থাকলেও নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সংখ্যাটি আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কমিশনারের সংখ্যা বাড়তেও পারে, কমতেও পারে।’

ডা: তাহের বলেন, ‘কমিশন গঠনের পাশাপাশি কমিশনারদের আচরণবিধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে। আমরা প্রস্তাব করেছি, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের পর একটি নতুন ধারা যুক্ত করে আইন প্রণয়ন করতে হবে, যা নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের অ্যাকাউন্টেবিলিটি ও অপসারণ প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার দু’টি আলাদা বডি। তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনের আলোচনাও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, সেটিও চূড়ান্ত হলে জানানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের আলোচনা ছিল ঐক্য ও বিশ্বাসের প্রতীক। সবাই আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের সাথে অংশ নিয়েছেন। আমরা আশা করি, এই ঐকমত্য আগামী নির্বাচনের জন্য একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকের বৈঠকে নির্বাচন কমিশন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেও অন্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে।’