বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্য যদি আমরা সৃষ্টি করতে পারি, তাহলে এটার সাথেই আসলে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি আসবে এবং সেটা তখন সহজ হবে’।
রোববার বিকেলে রাজধানী গুলশানের রেনেসাঁস হোটেলে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এফএসডিএস) আয়োজিত ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।
মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা অনেক ডিবেট করতে পারি। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে কেন আমরা একমত হতে পারব না, যদি এদেশের নাগরিক হই, দেশপ্রেমিক হই। বর্তমানে সরকারও চেষ্টা করছেন জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির জন্যে। কমিটি হয়েছে, তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ করেছেন। আমি দেখি না স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ঐক্যের ক্ষেত্রে কেউ দ্বিমত প্রকাশ করবে।
তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতা যদি জনগণের হাতে দিতে হয় তাইলে এদেশে একটি সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ এবং একদম স্থায়ী নির্বাচন ব্যবস্থা এখানে সৃষ্টি করতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থায় নানা রকমের মতামত এখন উঠছে। উঠতে পারে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন মতামত থাকতে পারে। আমি মনে করি, গণতন্ত্রের ব্যাপারে বুদ্ধিজীবীদের মতামত আছে, রাজনীতির মতামত আছে এবং একটা আঞ্চলিক রিজিওনাল গুরুত্ব থাকে, তাই আমাদের এখানে এভাবে ওভাবে নির্বাচন হবে, এটা না বলে; আমরা বলেছি, আগে জনগণের হাতে আমরা ভোটের অধিকার দেব। তারা নিজ হাতে, নিজ ব্যালটে, নিজে স্বাধীনভাবে একজন ব্যক্তিকে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যের প্রতি জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্ধু ডক্টর আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলে গেলেন, উনারা পিআর পদ্ধতি ‘ইন্টিডিউস’ করতে চান। কিন্তু মূল প্রশ্ন হচ্ছে, একজন মানুষের তার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। সে পিআর হলে এটা তো দলের হবে, ব্যক্তিত্ব প্রতিনিধি হবে না। আর আমরা এই সংসদকে বলছি, জনগণের কাছে তার জবাবদিহি হতে হবে। তো জবাবদিহি হতে হলে তো পিআর সিস্টেমে যদি নির্বাচন হয়, আর সংখ্যাও ভিত্তিতে যদি হয়। একটি এলাকার এমপি নির্ধারিত কেউ বলতে পারবে না। অতএব সে কার সাথে জবাব দেবেন? গণতন্ত্রের বিষয়ে অবশ্যই আমাদের সকলকে ঐকমত্য হতে হবে।
তিনি বলেন, বৈষম্যমুক্ত সমাজ, এমন কোনো ক্ষেত্র নেই সেখানে বৈষম্য নাই। অবশ্যই বৈষম্যমুক্ত সমাজ করতে হলে বিশাল ঐক্যের প্রয়োজন জনগণের মধ্যে, রাজনৈতিক দলের মধ্যে এবং সকল চিন্তাভেদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে। বৈষম্যমুক্ত অর্থনীতি, বেকার সমস্যার সমাধান, কর্মমুখী শিক্ষা, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা এগুলো ছাড়া তো ঐকমত্য হবে না।
‘একেকটা দলের কিছু কিছু ছোটখাট বিষয় থাকে। এ ব্যাপারে মনে করি, সর্বনিম্ন ইস্যু নিয়ে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা সম্ভব এবং করা প্রয়োজন। তাছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই জেষ্ঠ্য নেতা।



