ক্যাম্পাসে প্রকৃত ছাত্র রাজনীতি না হলে নিয়ন্ত্রণের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখন আর বিভাজন তৈরি করতে পারি না। অযথা বিতর্কে সময় নষ্ট করতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতি পুনর্গঠন। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে।

অনলাইন প্রতিবেদক
বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |নয়া দিগন্ত

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলবাজি না করে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্র নেতৃত্ব গড়ে তোলা তোলার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ছাত্র রাজনীতি যদি প্রকৃত ছাত্র রাজনীতি না হয়, তাহলে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সঠিকভাবে পরিচালিত করতে না পারায় এটি ক্ষতি করেছে, আগামীতেও করতে পারে। আজ আমি বাধ্য হয়ে বলছি- এটা যদি সঠিকভাবে পরিচালিত না হয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে ‘বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি ডা: মো: আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণ সভায়’ এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমাদের দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই- অনেক ত্যাগ, অনেক কষ্ট-যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে, আমাদের ছাত্রদের রক্তের মধ্য দিয়ে, শিশুদের রক্তের মধ্য দিয়ে আমরা একটা পরিবর্তন পেয়েছি। একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যাতে আমরা নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারি।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ, সংবিধান- এসব নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে, অবশ্যই হবে। কিন্তু অপপ্রচার, মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এগুলোকে ব্যবহার করার চেষ্টা কখনোই ভালো হতে পারে না। জুলাই সনদের প্রত্যেকটা জায়গায় আমরা ছিলাম। আমাদের দল থেকে দু’জন স্বাক্ষর করেছেন- আমি আর সালাহউদ্দিন আহমদ। যখন স্বাক্ষর করলাম, তার আগে যে ঘোষণা করা হয়েছিল, খুব পরিষ্কার করে বলেছিলাম যে আলোচনার মধ্যে যেগুলোতে আমরা একমত হবো না, সেগুলোতে আমরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেবো। সেগুলো বাস্তবায়ন করব না। তবে বিপদে ফেলার জন্য ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সব এক করে গেছেন। যেমন- আনুপাতিক হারে আপার হাউজ হবে, আমরা কখনোই এটার পক্ষে নই। এর মধ্যে আরো অনেক বিষয় আছে, যেগুলোতে আমরা একমত হইনি। কিন্তু তারা বলে দিলো, এগুলো হবে। আর বলা হলো, নির্বাচনের পরে যারা নির্বাচিত হবেন, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবেন। আমরা এর সাথে একেবারেই একমত নই। কারণ এর কোনো নজির নেই। সংসদ থাকবে, সংসদই সংবিধান আনবে এবং সংবিধান পরিবর্তন করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের মধ্যে একটা ভুল ধারণা তৈরি করা হয়েছে- বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যে বিএনপি সংস্কার মানে না। অথচ বিএনপি তো সংস্কারের জনক। ১৯৭৫ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাদ দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি জনগণের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, প্রেসের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন- এসবই ছিল সবচেয়ে বড় সংস্কার। পরে বেগম খালেদা জিয়া পার্লামেন্টারি ফর্ম অব গভর্নমেন্ট চালু করেন। এগুলো কি সংস্কার নয়? তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার- আমরা প্রথমে রাজি হইনি, পরে জনমত দেখে রাজি হয়েছি। নির্বাচন করে, বিশেষ অধিবেশন করে, সেই বিধান সংবিধানের সাথে সংযুক্ত করেছি।

তিনি বলেন, এখন মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জামায়াতের নেতৃত্বে কিছু দল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে আন্দোলন করছে। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর, পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশনে জামায়াত বলেছে যে তারা সহযোগিতা করতে চায় এবং সংসদের মাধ্যমেই সমাধান করতে চায়। আমাদের আইনমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছেন- সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি পার্লামেন্টারি কমিটি গঠন করা হোক। বিরোধী দল বলেছে, তারা চিন্তা করে জানাবে। আমি আশা করি, তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে এবং আমরা এই বিতর্কের সমাধান করে সামনে এগিয়ে যেতে পারব।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখন আর বিভাজন তৈরি করতে পারি না। অযথা বিতর্কে সময় নষ্ট করতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতি পুনর্গঠন। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার দেনা- সব অচল হয়ে আছে। এই অবস্থা থেকে বের হতে হলে আমাদের সবচেয়ে বড় দরকার জাতীয় ঐক্য। আমরা আর কতদিন এই পৃথিবীতে থাকব জানি না। নতুন প্রজন্ম আছে- তাদের জন্য আমাদের দায়িত্ব আছে।

তিনি বলেন, আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। পৃথিবী এখন প্রতিযোগিতার-প্রযুক্তির যুগ। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পর্যন্ত চলে গেছে অনেক দূর। আমরা যদি নিজেদের প্রস্তুত করতে না পারি, তাহলে আরো পিছিয়ে পড়ব। আর পিছিয়ে পড়া মানে- অন্য শক্তির কাছে নির্ভরশীল হয়ে যাওয়া।