সরকারকে অবিলম্বে জুলাই সনদ অবিকৃতভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করে সরকারের পক্ষে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
বুধবার ( ১৫ এপ্রিল) রাজধানীর বারিধারার সিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরার অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালালেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর সবকিছু ভুলে যেতে বসেছে। শুরুতেই তারা গণভোটকে অবৈধ বললেও এখন তারা এর বৈধতা স্বীকার করে নিয়েছে। তাই সরকারের পক্ষে জুলাই সনদকে পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই।
রাজধানী ঢাকাকে ইসলামী আন্দোলনের অপরাজেয় দুর্গে পরিণত করতে ইসলামী আন্দোলনের সকল স্তরের জনশক্তিকে ময়দানে আপোষহীন ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার রাজধানী ঢাকাকে ইসলামী আন্দোলনের অপরাজেয় দুর্গে পরিণত করতে ইসলামী আন্দোলনের সকল স্তরের জনশক্তিকে ময়দানে আপোষহীন ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়েছেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, ইসলামী আন্দোলন কোনো গতানুগতিক রাজনীতি নয় বরং এটি আর্ত-মানবতার কল্যাণে নিবেদিত কাফেলা। তাই ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের প্রচলিত রাজনীতির গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে না দিয়ে ধৈর্য, সহনশীলতা, প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিজেদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী সৃষ্টির জন্য অধ্যবসায়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য কুরআন, হাদিস ও বেশি বেশি ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করে নিজেদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পরিধি বাড়াতে হবে। সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে পরামর্শভিত্তিক। দায়িত্ব পালন করতে হবে ইখলাস ও দৃঢ়তার সাথে। তাহলেই ইসলামী আন্দোলন আগামী দিনে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পারিণত হবে। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সকলকে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতের রাজনীতি দুনিয়া হাসিলের কোন উদ্দেশ্য নেই বরং আর্ত-মানবতার ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তিই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। বস্তুত আমরা ভোগের নয় বরং ত্যাগ ও কল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা এমন এক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ় প্রত্যয়ে যেখানে সকল মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে। এ কাজের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহ তা’য়ালাকে খুশী করে জান্নাতের মহাপুরষ্কারে পুরস্কৃত হতে চাই। তিনি সে উদ্দেশ্য সাধনে সকলকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
মজলিসে শূরার অধিবেশনে পুরুষ ও নারী সদস্যরা অংশ গ্রহণ করেন।



