বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দেশের স্বার্থে মিলেমিশে একসাথে কাজ করতে চাই।
তিনি বলেন, ‘দেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আছে। আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। সংস্কারের জন্য গণভোট আর সরকার গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচন। ১২ তারিখের এই নির্বাচন নির্বিঘ্ন হোক, সুন্দর হোক এবং গ্রহণযোগ্য। আমরা এটা দোয়া করি। আজকে এই বিষয় নিয়ে আমরা আলাপ আলোচনা করেছি এবং আমরা এটাও বলেছি প্রিয় দেশের স্বার্থে অতীতে আমরা একসাথে কাজ করেছি। আগামীতেও দেশের স্বার্থে ইনশআল্লাহ আমরা একসাথে কাজ করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন ও দেশের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঐক্যের যে জায়গা তৈরি করে গেছেন জামায়াত সেই পথ অনুসরণ করে চলতে চায়।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানাতে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে যান জামায়াত আমির। সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গিয়ে তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে শোক ও সমবেদনা জানান জামায়াত আমির। পরে সেখানে রাখা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি। স্বাক্ষরের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কুশলাদি জিজ্ঞাস করেন ও তাকে সান্তনা দেন। তার পরিবারবর্গ ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
জামায়াত আমির বলেন, তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতারা একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। আমরাও একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি। এমনকি আমরা এটাও বলেছি যে পাঁচটা বছরের জন্য জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো কোনো চিন্তা করতে পারি কি না! সে ব্যাপারে কথা বলেছি। বিএনপি নেতারাও একই কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগে আমরা আবারো বসতে চাই। খোলা মনে কথা বলব, জাতির জন্য আমরা চিন্তা করব, সিদ্ধান্ত নেব। আপনারা দোয়া করবেন। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) ঐক্যের যে পাটাতন তৈরি করে দিয়ে গেছেন সেই জায়গা থেকে আমরা যেন নিজেদের দায়িত্বটা পালন করতে পারি।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ আবেগ ও চোখের পানি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন। মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি, তিনি যেন তার প্রতি রহম করেন। তাকে যেন জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। তিনি ইতিহাসের একটি বিরল সম্মান নিয়ে চলে গেছেন। শেষ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। মানুষ আবেগ দিয়ে, চোখের পানি দিয়ে তাকে বিদায় দিয়েছে। এটা তার পাওনা ছিল। জাতির জন্য যে অবদান রেখেছেন তিনি তার পাওনা আল্লাহর কাছ থেকে পেয়েছেন।
তিনি বলেন, তাকে (খালেদা জিয়া) দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমরাও যদি মানুষের জন্য কাজ করি তাহলে মানুষও আমাদের হয়তো চোখের পানি দিয়ে বিদায় দেবে। এটা সবার কপালে জোটে না।
খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রামী ও আপসহীন জীবন জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন লড়াই করেছেন। তার সাথে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। অসুস্থতা আমলে নেয়ার পরিবর্তে উল্টো উপহাস করেছিল বিগত সরকার।
তারেক রহমান ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর সময় আরো উপস্থিত ছিলেন– বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং ডা: জাহিদ হোসেন, জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন।



