ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে দেড় শতাধিক আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট একশ’র কাছাকাছি আসনে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিএনপি জোট ভালো ফল করেছে। আর রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে জামায়াত জোট ভালো ফল করেছে। ঢাকা শহরে জামায়াত জোট পাঁচটি এবং বিএনপি জোট চারটি আসনে ভালো ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। বাকি আসনগুলোতে রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন, গণ-আন্দোলনের স্মৃতি এবং জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাস্তবতার মধ্যেই এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল ও বিভিন্ন কেন্দ্রভিত্তিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সামগ্রিকভাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকলেও উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখযোগ্য সাফল্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কাড়ছে। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলে দলটির শক্ত অবস্থান নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে ৩৮টি আসনে। এর মধ্যে রয়েছে– ১. মো: শফিকুল ইসলাম (পটুয়াখালী-২),২. মো: নূরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), ৩. মো: আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩), ৪. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১), ৫. শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫), ৬. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৬), ৭. মো: আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪), ৮. মো: গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫), ৯. মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), ১০. এ টি এম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২), ১১. শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ) (বাগেরহাট-২), ১২. মো: আবুল কালাম আজাদ (খুলনা-৬), ১৩. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (মৌলভীবাজার-১), ১৪. মো: সাইফুল আলম (ঢাকা-১২), ১৫. মো: রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (শেরপুর-১), ১৬. মো: আব্দুল গফুর (কুষ্টিয়া-২), ১৭. মো: তাজউদ্দীন খান (মেহেরপুর-১), ১৮. মো: নাজমুল হুদা (মেহেরপুর-২), ১৯. মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১), ২০. মো: মাহবুবুর রহমান (বেলাল) (রংপুর-৩), ২১. মো: রায়হান সিরাজী (রংপুর-১), ২২. আখতার হোসেন (রংপুর-৪), ২৩. মো: ইজ্জত উল্লাহ (সাতক্ষীরা-১), ২৪. মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), ২৫. হাফেজ মুহা: রবিউল বাশার (সাতক্ষীরা-৩), ২৬. মো: রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪), ২৭. মো: আব্দুস সাত্তার (নীলফামারী-১), ২৮. আলফারুক আব্দুল লতীফ (নীলফামারী-২), ২৯. ওবায়দুল্লাহ সালাফী (নীলফামারী-৩), ৩০. আব্দুল মুনতাকিম (নীলফামারী-৪), ৩১. মো: মাজেদুর রহমান (গাইবান্ধা-১), ৩২. মো: আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২), ৩৩. আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (গাইবান্ধা-৩), ৩৪. মো: আব্দুর রহিম সরকার (গাইবান্ধা-৪), ৩৫. মো: আব্দুল ওয়ারেছ (গাইবান্ধা-৫), ৩৬. মো: মাসুদ পারভেজ (চুয়াডাঙ্গা-১), ৩৭. মো: রুহুল আমিন (চুয়াডাঙ্গা-২) ও ৩৮. মো: আফজাল হোসেন (কুষ্টিয়া-৪)।
নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত আংশিক ফলাফল, গণনা কেন্দ্রের তথ্য এবং স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষকদের হিসাব বলছে– গ্রামাঞ্চল, মফস্বল এবং ছোট শহরগুলোতে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে রয়েছেন।
বিএনপি জোটের নেতারা দাবি করছেন, এবারের ভোটে তারা ‘নীতিনির্ভর প্রচারণা’ চালিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি– এসব প্রতিশ্রুতি ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ‘মানুষ এবার দল নয়, জবাবদিহি চেয়েছে। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলনই ভোটের বাক্সে দেখা যাচ্ছে।’
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ফলাফল বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন পর দলটি উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। রংপুর বিভাগের কয়েকটি গ্রামীণ আসন, রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকা এবং খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও তৃণমূলভিত্তিক কাজ সুফল দিয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। মসজিদভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনের সক্রিয়তা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহায়তা কার্যক্রম– এসব কারণ দলটির ভোটব্যাংককে শক্ত করেছে।
রংপুরে কয়েকটি আসনে জামায়াত প্রার্থীরা প্রথমবারের মতো বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরকারের নীতির প্রতি অসন্তোষ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে দুর্বলতা স্থানীয় ভোটারদের বিকল্প খোঁজার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ সুযোগে জামায়াত তাদের ‘সততা ও সামাজিক সেবা’ভিত্তিক প্রচারণা কাজে লাগিয়েছে।
রাজশাহীতে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। তবে সীমান্ত বাণিজ্য, আমচাষ ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে ক্ষতির অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা বাড়িয়েছে। কয়েকটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের সমন্বিত প্রচারণা তাদের পক্ষে কাজ করেছে।
খুলনায় শিল্পাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় জামায়াতের সাফল্য অনেককেই বিস্মিত করেছে। চিংড়ি শিল্প, নদীভাঙন ও বেকারত্ব– এই তিন ইস্যুতে দলটি দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। ফলে তরুণ ভোটার ও প্রথমবারের ভোটারদের একটি অংশ তাদের দিকে ঝুঁকেছে।
তরুণ ভোটারদের ভূমিকা এবারের নির্বাচনে ছিল নির্ণায়ক। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার প্রথম বা দ্বিতীয়বার ভোট দিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা– এসব বিষয় তাদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই বলেছেন, ‘আমরা দল নয়, কাজ দেখি।’ এই মনোভাব বিএনপি জোট ও জামায়াত জোটÑ দুই পরেই কিছু প্রার্থীকে সুবিধা দিয়েছে, যারা স্থানীয়ভাবে সক্রিয় ছিলেন।
এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, অভিযোগ ও অনিয়মের খবরও এসেছে। কয়েকটি কেন্দ্রে ধীরগতির ভোটগ্রহণ, ইভিএম বিভ্রাট এবং এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সামগ্রিকভাবে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, মানুষের অংশগ্রহণই এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি জোটের এগিয়ে থাকা মানেই এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত নয়। কারণ, জামায়াতের উত্থান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভালো ফল এবং আঞ্চলিক সমীকরণ সংসদে জোট রাজনীতিকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে। ফলে সরকার গঠন করতে হলে সমঝোতা ও কৌশলগত সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়া জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নও নতুন সংসদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। গণতান্ত্রিক সংস্কার, প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ এসব বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। যে দল বা জোটই সরকার গঠন করুক, তাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নচেৎ জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন হবে।
সামগ্রিক চিত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। একদিকে বিএনপি জোটের এগিয়ে থাকা পরিবর্তনের আকাক্সক্ষার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে রংপুর, রাজশাহী, খুলনায় জামায়াতের সাফল্য আঞ্চলিক শক্তির উত্থানকে সামনে আনে। এই ফলাফল প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের ভোটাররা এখন আরো সচেতন, আরো হিসেবি এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি সক্রিয়।
চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক, এ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে, যেখানে ভোটের বাক্সে জনগণ তাদের প্রত্যাশা, ক্ষোভ ও স্বপ্ন একসাথে প্রকাশ করেছে। নতুন সংসদের দায়িত্ব হবে সেই বার্তাকে সম্মান জানিয়ে বাস্তব পরিবর্তন নিশ্চিত করা।
রংপুরের ১৬ আসনে এগিয়ে জামায়াত
রংপুর ব্যুরো থেকে সরকার মাজহারুল মান্নান জানান, আবারো সে ইতিহাসের চিরচেনা ভোটের উৎসবে ফিরল উত্তরের জেলাগুলো। শহর থেকে গ্রাম, নগর থেকে বন্দর- সবখানেই যেন ঈদের উৎসব। রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনে গড়ে ৬০ ভাগেরও বেশি ভোট গ্রহণের তথ্য জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া পুরো বিভাগজুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। নারী ভোটারদের সংখ্যাই ছিল বেশি। এদিকে রাত সাড়ে সাতটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৬টিতে এগিয়ে ছিল জামায়াত প্রার্থীরা।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। শুধু বয়োবৃদ্ধরাই নয়, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও এসেছিলেন ভোট উৎসবে। সব বয়সী ভোটারদের মিলনমেলা বসেছিল কেন্দ্রে কেন্দ্রে। নতুন ভোটারদের আনন্দটা একটু ভিন্নরকম। অনেকের ১৫ বছর ভোট না দেয়ার দুঃখ ঘুচেছে।
রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩ আসনে ৪৫৪৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। ওইসব আসনে ২৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র পদে ৩৩ জন। বাকি সবাই ২৯ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। এর মধ্যে আটজন নারী রয়েছেন। বিএনপি একটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছে। আর জামায়াত ছেড়ে দিয়েছে তিনটি আসন এনসিপিকে। ৩৩টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এবার এ বিভাগে মোট ভোটার ছিল এক কোটি ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৩ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ জন এবং নারী ৭৮ লাখ ১০ হাজার ১৯ জন। এর মধ্যে ৬০ ভাগেরও বেশি ভোট পড়েছে।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পঞ্চগড়ে ৭০ ভাগ ভোট পড়েছে। বিভাগে গড়ে ৬০ ভাগের বেশি ভোট পড়েছে। গাইবান্ধায় একটি কেন্দ্রে সমস্যা হয়েছে।
এ দিকে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। রংপুর রেঞ্জ কার্যালয় এবং স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে, রংপুর-৪ আসনের হারাগাছের মডেল কলেজ এবং দরদী হাইস্কুল কেন্দ্রে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ভোট শেষ হওয়ার পর আখতার হোসেন হারাগাছের মডেল কলেজ কেন্দ্রে যায়। সেখানে তিনি কী পরিমাণ ভোট কাস্ট হয়েছে সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে তাকে গালিগালাজ করে এবং কেন্দ্রের ভেতরে আটকে রাখে। এনসিপি নেতাকর্মীদের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতাহাতি হয়। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর দরদী স্কুলে আখতার গেলে সেখানেও উত্তেজনা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে সেখানে ছুটে যান বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হলে সেনাবাহিনী গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এ ছাড়াও রংপুরে অন্তত ১০টি স্থানে এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুপুর দেড়টার দিকে পীরগাছার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুল কেন্দ্র এলাকায় এনসিপি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তোফায়েল হোসেন ও কর্মী উৎসব সরকার লাঠি নিয়ে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করলে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পাঁচজন আহত হয়। এ দিকে ইটাকুমারী ইউনিয়নের দামরুচাকলা দেওয়ান সালেহ আমদ দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রের সামে এনসিপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য শামীমের সাথে জাতীয় পার্টির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদের পুত্র মেহরাব হৃদয়ের সাথে কথাকাটাটির এক পর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পীরগাছার নটাবাড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার নিয়ে হাতাহাতির ঘটনার ঘটে। অন্য দিকে রংপুর-২ আসনে মর্নেয়া ইউনিয়নের মৌভাষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে বিএনপি নেতা লাজু ও পল্টনের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টার ঘটনায় জামায়াত কর্মীদের সাথে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ দিকে কাউনিয়ার শহীদবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা অভিযোগে এক বিএনপি কর্মীকে আটক করে সেনাবাহিনী।
পুলিশের পোশাক পরিহিত নারী আটক : লালমনিরহাটে ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক নারীকে আটক করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সকালে উপজেলার ভাদাই গিরিজা সংকর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ওই নারীর স্থায়ী বাড়ি উপজেলার নামরী বাজার এলাকায়। ওই নারী দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বিচরণ করছিলেন। কোনোভাবে পুলিশের একটি পুরনো পোশাক সংগ্রহ করে সেটি গায়ে দিয়ে তিনি আদিতমারী এলাকায় চলে আসেন।
গাইবান্ধা-৫ আসনের গোবিন্দগঞ্জে বড়দহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের সাথে জামায়াত নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডার জেরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও আনসারসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ছিনতাই হয়েছে অব্যবহৃত ১৪০০ ব্যালট পেপার। এ ছাড়াও ফুলছড়িতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নাহিদুজ্জাান নিশাদের কর্মীরা কেন্দ্র দখল করতে গেলে তাতে বাধা দেয় জামায়াত কর্মীরা। এতে তিনজন আহত হন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেই জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের ১৪৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৫২ কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৬৩৬৯৪ ভোট, বিএনপির আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ৫০৮০৮। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ১৮৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮ কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ডক্টর কেরামত আলী ৭৭৭৬৪ এবং বিএনপির অধ্যাপক শাজাহান আলী ৬৯১৬৭ ভোট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের ১৭২ কেন্দ্রের মধ্যে ৯৪ কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নুরুল ইসলাম বুলবুল পেয়েছেন ১০২২০৮ এবং বিএনপির হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৯৬৩৮ ভোট।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জিতলেন জামায়াত প্রার্থী
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ২০ হাজার ৯৯৮ ভোট বেশি পেয়ে জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জানা গেছে, মোট ১৩০টি কেন্দ্রের গণনা শেষে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজিজুর রহমান পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট।
ভোলা-৩ এ মেজর হাফিজ নির্বাচিত
লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে বেসরকারিভাবে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম এর থেকে ৯৬ হাজার ১১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। এ নিয়ে মেজর হাফিজ সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এজেন্ট ও অসমর্থিত সূত্রের ফলাফলে বেসরকারিভাবে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট এবং ফুলকপি প্রতীক পেয়েছে ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট। ভোলা-৩ আসনে ভোট প্রদানের হার ৫৮ শতাংশ।
মেহেরপুর দু’টি আসনে জামায়াত প্রার্থীরা জয়ী
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মো: তাজউদ্দিন খান এক লাখ ২২ হাজার ৮২৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদ অরুন পেয়েছেন এক লাখ চার হাজার ২২৪ ভোট। মেহেরপুর-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ নাজমুল হুদা ৯৪ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম ধানের শীষের প্রার্থী মো: আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৮৯ ভোট।
কুষ্টিয়া-২-এ জামায়াত জোটের প্রার্থী জয়ের পথে
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী আব্দুল গফুর বিজয়ের পথে। ভেড়ামারা উপজেলার ৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টির ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ৬০ হাজার ২৯৩ ভোট। ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন ৪২ হাজার ৫৬১ ভোট। দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ১৭ হাজার ৭৮১ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। অন্য দিকে মিরপুর উপজেলার ১১৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টির ফলাফলে ২৮ হাজার ৬২৭ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৩ বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১২ হাজার ৬১৬ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন। ৯২টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি মোট ৭৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫৩৬ ভোট।
টাঙ্গাইল-১ এ বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী
মধুপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে সহিংসতা ছাড়াই দুই উপজেলার ১৪৮টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৪৮ কেন্দ্রের মধ্যে মধুপুর উপজেলায় রয়েছে ৮৯টি কেন্দ্র। মোট ১৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন পেয়েছেন ১৫৪৫৩৯ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডা: মোহাম্মদ আবদুল্লাহেল কাফী পেয়েছেন ৯২৭৮২ ভোট।
মৌলভীবাজার-২ এ বিএনপির শওকতুল ইসলাম শকু নির্বাচিত
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ১০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে সবকটি ও পোস্টাল ভোটের ফলাফলে ধানের শীষের প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু ৭৪ হাজার ৬ শত ৩৬ ভোট পেয়ে নির্বািচত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ইঞ্জিনিয়ার এম সাহেদ আলী পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭ ভোট । ভোটের ব্যবধান ২১ হাজার ৫ শত ৩৯ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফজলুর রহমানের জয়
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বেসরকারি ফলাফলে ৭৭ হাজার ৭০৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ফজলুর রহমান মোট এক লাখ ৩২ হাজার ৫০৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৯৯ ভোট। সবগুলো কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের মাধ্যমে পাওয়া রেজাল্টশিটের ভিত্তিতে বেসরকারি এই ফলাফল জানা গেছে।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমদ নির্বাচিত
ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ৫৩ হাজার ৬৯ ভোটের ব্যবধানে তার বিজয় নিশ্চিত হয়।
১৭০টি ভোটকেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৯২৫টি। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিলন পেয়েছেন এক লাখ ৫২ হাজার ৯৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম আল মাদানি পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৯২৮ ভোট।
রূপগঞ্জে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাচিত
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯০ হাজার ২৮৯ ভোট।
ময়মনসিংহের ১১টি আসনের ফলাফল
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে বেসরকারিভাবে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট ৭৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যান্য আসনের প্রাপ্ত ফলাফলে দু’টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং একটি আসনে জামায়াতে ইসলামী ও একটি আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এগিয়ে আছেন।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ১৪৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৭২ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র সালমান ওমর রুবেল পেয়েছেন ৬৪ হাজার ১৩৯ ভোট। নিকটতম বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৭৬৬ ভোট।
ময়মনসিংহ-২ (তারাকান্দা-ফুলপুর) আসনে ১৭৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬ কেন্দ্রের ফলাফলে খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ (রিক্সা) প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬২৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোতাহার হোসেন তালুকদার (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫২৯ ভোট।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন ধানের শীষ প্রতীকে ৭৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫৩৬ ভোট।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের মোট ১৭৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১,০০,৭৪৭টি। নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামরুল আহসান এমরুল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯০,১৮০ ভোট।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের ১০৪ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬২ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির জাকির হোসেন বাবলু ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭০,২০৮ ভোট। নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট মো: মতিউর রহমান আকন্দ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫৬,১১১ টি।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের ১২১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৫,৯১৯টি। নিকটতম বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫,৫৮৪ ভোট। জামায়াতে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন ঘোড়া প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৩০,৫৫৭ ভোট এবং বিএনপির মো: আখতারুল আলম ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৯,৫৩৮।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের ১২১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির ডা: মাহবুবুর রহমান লিটন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৯,৬৬১ ভোট। নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মো: আছাদুজ্জামান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯,১৯৯ ভোট।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের ৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮১টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রকৌলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ধানের শীষ প্রতীকে ৯৫,৬১৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। নিকটতম এলডিপির মো: আওরঙ্গজেব বেলাল ছাতা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪০৮৮৭টি।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের ১২১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭৯,৪৫৪টি। নিকটতম ডেভেলপমেন্ট পার্টির এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ফুলকপি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫৮,৭০১টি।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের ১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬২ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান হাঁস প্রতীকে ৬৩,০২৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। নিকটতম বিএনপির মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৭,৬৬৪টি এবং জামায়াতে ইসলামীর মো: ইসমাইল হোসেন সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৬,৪২৭টি।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের ১০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮১ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ধানের শীষ প্রতীকে ৭৭,৩৬৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্র্থী মো: মোর্শেদ আলম হরিণ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫২,৮২৩টি এবং এনসিপির জাহিদুল ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৬,৬৭৫টি।



