তারেক রহমানের সাক্ষাৎকে যেভাবে মূল্যায়ন করলেন জামায়াত আমির

‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সাথে মিলে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
দুই দলীয় প্রধানের সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন দল দু’টির কয়েকজন সিনিয়র নেতা
দুই দলীয় প্রধানের সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন দল দু’টির কয়েকজন সিনিয়র নেতা |নয়া দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে রোববার সন্ধ্যায় তার বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

এ সময় জামায়াত আমিরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। সাক্ষাতে দুই দলের কয়েকজন সিনিয়র সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা সৌহার্দ্যপূর্ণ একটি সময় কাটান।

তাদের এ সাক্ষাতের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে দেয়া ওই পোস্টে ডা: শফিকুর রহমান লিখেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আজ আমার আবাসিক কার্যালয়ে এসেছিলেন। তার এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি তার এই আগমনকে স্বাগত জানাই এবং প্রত্যাশা রাখি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।

আমি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সাথে মিলে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। আমাদের আলোচনায় তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমি এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়।

জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে আমরা নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবো, তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আমরা আপসহীন থাকবো। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানেই জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকবো। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয় বরং সংশোধন; বাধা দেওয়া নয় বরং পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার সাথে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

জামায়াত আমিরের সাথে সাক্ষাতের পর পর জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বেইলি রোড সার্কিট হাউজের পার্শ্ববর্তী একটি বাসায় যাবেন তারেক রহমান।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের দুই নেতার সাথে সাক্ষাৎ করছেন দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাওয়া তারেক রহমান।