অতিরিক্ত আইজিপি হলেন আওয়ামী রোষানলের শিকার আলী হোসেন ফকির

মো: আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রথমবার চাকরিচ্যুত, পরের বার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় তাকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আলী হোসেন ফকির
আলী হোসেন ফকির |সংগৃহীত

অতিরিক্ত আইজিপি হয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলের শিকার আলী হোসেন ফকির।

সোমবার (১১ আগস্ট) ডিআইজি পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি (দ্বিতীয় গ্রেড) করেছে সরকার। এ তালিকার এক নম্বরে রয়েছেন মো: আলী হোসেন ফকির। তিনি এপিবিএনের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

মো: আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রথমবার চাকরিচ্যুত, পরের বার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করতেন।

ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হলে আইনি প্রক্রিয়ায় এসপি পদমযাদায় চাকরি ফিরে পান আলী হোসেন ফকির। এরপর সুপার নিউমারিতে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান।

আলী হোসেন ফকিরের বাড়ি বাগেরহাটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। একটি হলের পদধারি নেতা ছিলেন। ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশের এএসপি হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার প্রথম আমলে আলী হোসেন ফকির আওয়ামী রোষানলের শিকার হন। তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় চাকরি ফিরে পান। কর্মজীবনে তিনি চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান। এসপি হিসেবে একাধিক জেলায় পদায়ন পান। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ডিএমপির উত্তরা জোনের ডিসি ছিলেন। এরপর তিনি জাতিসঙ্ঘ মিশনে যান। সেখানেও তিনি সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে পুরস্কৃত হন। জাতিসঙ্ঘ থেকে দেশে ফেরার পর রাজশাহী ডিআইজি অফিসে এসপি হিসেবে সংযুক্ত করা হয় তাকে। সেখানে থাকা অবস্থায় ২০২২ সালে শেখ হাসিনার সরকার তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়।