জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে আজ (বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ বিষয়ে গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।
তেলের দাম বাড়ার পর থেকেই পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। যদিও সরকারিভাবে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি, তবু দেশের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও এ নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি জানিয়েছে, সরকারিভাবে নতুন ভাড়া নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, ভাড়া নির্ধারণ কমিটি প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত বৈঠকে এ হার পরিবর্তিত হতে পারে।
বর্তমানে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা নির্ধারিত রয়েছে।
শুধু ডিজেলের বাড়তি দাম নয়, নানা খরচ যুক্ত করে বাড়তি ভাড়া নির্ধারণে সরকারকে চাপ দিচ্ছে মালিকপক্ষ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নেতৃত্বাধীন বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটিও তা মেনে নিচ্ছে। তারা তেলের বাইরে বিভিন্ন খরচ বেড়েছে ধরে ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। কিছু খরচ আসলে ‘গায়েবি’, যেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই।
পরিবহন মালিকদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের ঊর্ধ্বগতির কারণে খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ অবস্থায় ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত ভাড়া সমন্বয় প্রয়োজন।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের নতুন দরে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে। পাশাপাশি অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আজকের বৈঠকে ভাড়া চূড়ান্ত হলে, নতুন হার কবে থেকে কার্যকর হবে—সেই সিদ্ধান্তও জানানো হতে পারে।



