সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ এবং ঘুষ-দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এতে ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ভীক জুলাই চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, লিখিত পরীক্ষার তুলনায় মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এর সুযোগ নিয়ে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং ঘুষ-দুর্নীতির আশঙ্কাও বাড়বে বলে তারা মনে করেন।
সমাবেশে বক্তারা সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে মুক্ত রাখার দাবি জানান। তারা বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন একটি ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে, যেখানে একজন প্রার্থীর মেধা, যোগ্যতা ও পরীক্ষার ফলই নিয়োগের প্রধান ভিত্তি হবে।
বক্তারা আরো বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতিতে এমন কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না, যাতে লিখিত পরীক্ষায় মেধার প্রমাণ দেয়ার পরও মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বরের কারণে প্রার্থীদের অবস্থান ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক পদ্ধতি নিশ্চিত করার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।
ডাকসু নেতারা দাবি করেন, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ পুনর্বিবেচনা করতে হবে। একই সাথে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে-এমন সব সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থায় মেধা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।



