আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থায় পুনঃনির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাংলাদেশ

আইএমও কাউন্সিল নির্বাচন প্রতি দুই বছর পর পর তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচিত সদস্যরা দুই বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা
আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা |বাসস

আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার (আইএমও) ২০২৬-২৭ মেয়াদের কাউন্সিলে পুনর্নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা দাখিল করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী নিরাপদ, সুরক্ষিত ও টেকসই সামুদ্রিক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হলো।

এ বিষয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার লন্ডনে আইএমও সদর দফতরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ বাংলাদেশের পক্ষে প্রার্থিতা উপস্থাপন করেন।

আইএমও’তে মোট তিনটি বিভাগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলো- এ, বি ও সি। বাংলাদেশ ‘সি’ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যেখানে ২০টি আসনের জন্য লড়ায়ে নামবে ২৭টি দেশ। এই আসনগুলো সামুদ্রিক পরিবহন ও নৌ চলাচলে বিশেষভাবে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য সংরক্ষিত।

আইএমও কাউন্সিল নির্বাচন প্রতি দুই বছর পর পর তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচিত সদস্যরা দুই বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে।

লন্ডনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও আইএমও’তে স্থায়ী প্রতিনিধি আবিদা ইসলাম, আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডমিনগুয়েজ এবং আইএমও’তে নিযুক্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মোহাম্মদ ইউসুফ বলেছেন, ‘বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী একটি সামুদ্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যার পেছনে রয়েছে দেশের কৌশলগত অবস্থান ও সমৃদ্ধ নৌ-ঐতিহ্য।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগ ও অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

১৯৭৬ সালে আইএমও’তে যোগদানের পর থেকে বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছে।

বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ খাত ও বিশ্বজুড়ে কর্মরত ২১ হাজার অভিজ্ঞ নাবিক, যাদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণও বাড়ছে, উল্লেখ করে নৌপরিবহন সচিব বলেন, এগুলো বাংলাদেশের সামুদ্রিক উৎকর্ষে দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, পরিবেশবান্ধব জাহাজ ভাঙা শিল্পে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পর্যায়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে এ খাতে বিশ্বের মোট সক্ষমতার প্রায় অর্ধেকই জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ।

নৌপরিবহন সচিব আরো বলেন, ‘আইএমও কাঠামোর আওতায় স্বল্পোন্নত দেশ, ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র, ভূমিবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।’

প্রার্থিতা ঘোষণার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কয়েকটি অঙ্গীকার করেছে- এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামুদ্রিক কার্যক্রমে উৎসাহ দেয়া, পরিবেশবান্ধব জাহাজ ভাঙা শিল্পকে সমর্থন, সামুদ্রিক শিল্পে নারীর ক্ষমতায়ন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার।

জাতিসঙ্ঘের বিশেষায়িত সংস্থা আইএমও বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জাহাজ থেকে সৃষ্ট দূষণ রোধে কাজ করে থাকে। এর কার্যক্রম টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

বর্তমানে আইএমও’র সদস্য সংখ্যা ১৭৬টি এবং সহযোগী সদস্য তিনটি।

সূত্র : বাসস