ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের হলরুমের চাকচিক্য ও আভিজাত্য দেখে বিস্ময় ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘দুঃখের বিষয় হলো— আপনাদের জন্য এতো সুন্দর একটি ভিআইপি হলরুম করা হয়েছে, অথচ হাসপাতালের মূল সেবার মান বা কর্মক্ষেত্রের দিকে তাকালে দেখা যায় বেহাল দশা। সেখানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘টেকসই পরিবর্তনের জন্য প্রথমে নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন ও সংস্কার প্রয়োজন।’
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের হলরুমে আয়োজিত ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের নবনিযুক্ত চিকিৎসকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা: মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘দেশে এখন নতুন সরকার এসেছে। আমাদের সব ভেদাভেদ ভুলে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ও দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারলেই একটি সুন্দর দেশ গড়তে পারব।‘
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদদের কাজের মূল লক্ষ্য অভিন্ন, মানুষের সেবা করা এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানো। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আপনারা আজ এই অবস্থানে এসেছেন। অসহায় ও প্রান্তিক মানুষ যখন বিপদগ্রস্ত হয়ে আপনাদের কাছে আসেন, তখন চিকিৎসার পাশাপাশি আপনাদের একটু আশ্বাসের বাণী তাদের মনে প্রশান্তি দেয়। সেই মানুষের অন্তর থেকে আসা দোয়াটুকুই আপনাদের জীবনের আসল অর্জন।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের দর্শন তুলে ধরে এমপি নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘আমি পাঁচ বছরের জন্য এমপি হয়েছি, কিন্তু আপনারা আজীবন ডাক্তার থাকবেন। নির্বাচনের কষ্টের চেয়ে এখন আমার দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জ বেশি। আমি এমনভাবে কাজ করতে চাই, যেন মানুষ আজীবন মনে রাখে।‘
এ সময় তিনি তার বাবা সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ফরিদপুরে আমার বাবার অনেক অসমাপ্ত কাজ রয়েছে। আজও মানুষ তাকে মনে করে চোখের পানি ফেলে। এটাই তার ‘সদকায়ে জারিয়া’। আমাদেরও এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে কর্মের মাধ্যমে আমরা মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা পেতে পারি।’
পরিশেষে নায়াব ইউসুফ একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ ফরিদপুর গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারলে সেই দোয়া মৃত্যুর পরেও থেকে যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, এ বি সিদ্দিকী মিতুল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল ও মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান তরুণসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।



