শহীদ মিনারে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিককে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আহমদ রফিকের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার লাশ ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আহমদ রফিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ
আহমদ রফিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ |ইন্টারনেট

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাসংগ্রামী ও কবি আহমদ রফিকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

আজ শনিবার বেলা ১১টার পর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এছাড়া ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এই ভাষা সৈনিকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আহমদ রফিকের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার লাশ ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হবে।

এই ভাষা সৈনিকের নামে গড়ে ওঠা রফিক ফাউন্ডেশন জানায়, আহমদ রফিকের কফিন শোকযাত্রার মাধ্যমে ওই হাসপাতালে নেয়া হবে। মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য আহমদ রফিক তার মরণোত্তর দেহ দান করে গেছেন।

আহমদ রফিক বৃহস্পতিবার রাতে বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।

১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেয়া আহমদ রফিক নিউ ইস্কাটনের গাউসনগরের একটি ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করতেন। ২০০৬ সালে তিনি স্ত্রীকে হারান এবং ছিলেন নিঃসন্তান।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের অন্যতম প্রাবন্ধিক এই লেখক শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা লাভ করেছেন। দুই বাংলার রবীন্দ্রচর্চায় তার অবদান অনন্য; কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি প্রদান করেছে।

২০১৯ সাল থেকে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে শুরু করলে অস্ত্রোপচার করা হলেও ফল আশানুরূপ হয়নি। ২০২৩ সাল থেকে তিনি প্রায় দৃষ্টিহীন ছিলেন। ২০২১ সালে পড়ে পা ভেঙে যাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠে।