নির্বাচনকালীন ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় মেটার উচ্চপর্যায়ের সাথে আলোচনা হয়েছে : লুৎফে সিদ্দিকী

আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে কিভাবে মেটা ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী |ইন্টারনেট

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভুয়া তথ্য এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা প্রতিরোধে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাথে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে এ বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডব্লিউইএফ সভার ফাঁকে আমি ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাথে আলোচনা করেছি। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে কিভাবে মেটা ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।’

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দাভোস সফরসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে লুৎফে সিদ্দিকী এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

লুৎফে সিদ্দিকী জানান, আলোচনায় নির্বাচন শুরুর আগে কী ধরনের আগাম পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে এবং চলমান পরিস্থিতিতে কিভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব- সে বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এর মধ্যে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে এমন কোনো পেজ শনাক্ত হলে তা বন্ধ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রটোকল তৈরির কাজ চলছে এবং মেটা এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে সমন্বয় শুরু করেছে।

তিনি আরো জানান, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সাথে আগামীতে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টির গুরুত্ব মেটার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পুরোপুরি অবহিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এ নিয়ে পূর্ণ সচেতনতা রয়েছে। বিশেষ করে রিয়েল-টাইমে ভুয়া তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন টুল ব্যবহারের বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব টুল নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মশালা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে অথবা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এছাড়া দাভোসে পেপ্যালের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথেও বৈঠক করেছেন বলে জানান লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পেপ্যাল বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং বাজারে প্রবেশের জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। তবে এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া- এটি যেন তাৎক্ষণিক প্রবেশ হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন না করা হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, পেপ্যালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে উন্নত শাসনব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং ব্যাংক খাতের সংস্কারের ফলে বাংলাদেশের ঝুঁকির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সূত্র : বাসস