রোহিঙ্গা সঙ্কট পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে : সেনাপ্রধান

বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ক্যাপস্টোন কোর্স’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘ক্যাপস্টোন কোর্স’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান
‘ক্যাপস্টোন কোর্স’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। এর পাশাপাশি মাদক পাচার, চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপরাধও ওই এলাকায় চলছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ক্যাপস্টোন কোর্স’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে সেনাপ্রধান বলেন, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। এর পাশাপাশি মাদক পাচার, চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপরাধও ওই এলাকায় চলছে। সীমান্ত সমস্যা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা ও বিদ্রোহ, জ্বালানি সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময় করেছেন। এর ফলে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে তারা আরো সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দেশের এসব সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবেন।’

‘এসব সমস্যার সমাধান এক দিনে সম্ভব নয়। বিভিন্ন সময়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এনডিসিতে এনে এ ধরনের কোর্সের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি কোর্সটিও তাদের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হচ্ছে,’ যোগ করেন সেনাপ্রধান।

ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, নীতি প্রণয়ন ও আইন প্রণয়নে কোর্সে অংশ নেয়া অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের হিকমা, উইজডম ও প্রজ্ঞা আল্লাহ দিয়েছেন। আপনারা আপনাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল। এই প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আপনারা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।’

এনডিসির ক্যাপস্টোন কোর্সে বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৩৭ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে অধ্যাপক, চিকিৎসক, বিচারক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সমন্বয়ে অভিজ্ঞতার একটি চমৎকার সমাবেশ ঘটেছে। বিভিন্ন পেশা ও প্রতিষ্ঠানের মানুষের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক জ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছে।’

এনডিসির কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এনডিসির এটাই সাফল্য। কমান্ড্যান্ট, সব ফ্যাকাল্টি ও স্টাফকে ধন্যবাদ জানাই। তারা অত্যন্ত ভালোভাবে এই কোর্স পরিচালনা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোর্স অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি।’

কোর্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব তুলে ধরেন সেনাপ্রধান। তার মতে, ‘বিভিন্ন পেশা ও অভিজ্ঞতার মানুষের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, তা ভবিষ্যতে একটি বড় ধরনের সমন্বয় ও শক্তি তৈরি করতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞতার মানুষ যখন একসাথে যুক্ত হন, তখন একটি সিনার্জি তৈরি হয়। এই বন্ধন জাতীয়ভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে এবং দেশকে উন্নত করতে সহায়তা করবে।’

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অব্যাহত সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনে গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘কোর্স চলাকালীন ফেলোদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, কৌশলগত উপলদ্ধি সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।’

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ হিসেবে ক্যাপস্টোন কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি গঠনমূলক চিন্তাধারার বিকাশ, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, এনডিসির অনুষদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।