উইং কমান্ডার ইন্তেখাব

র‌্যাব বিলুপ্ত হলেও বিচারাধীন মামলা কার্যক্রম চলবে

‘নতুন বাহিনী গঠনের জন্য যে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, সেখানে র‌্যাবের আওতায় থাকা বিচারাধীন মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম আগের আইন অনুযায়ী চলমান রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রিফ করছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী
ব্রিফ করছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী |ছবি : নয়া দিগন্ত

র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠন হলেও র‌্যাবের আওতাধীন সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, নতুন বাহিনী গঠনের জন্য যে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, সেখানে র‌্যাবের আওতায় থাকা বিচারাধীন মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম আগের আইন অনুযায়ী চলমান রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে র‌্যাব বিলুপ্ত হলে বিচারাধীন মামলা আর চলবে না- বিষয়টি এমন নয়।

বুধবার (২০ আগস্ট) কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, বাহিনী কিভাবে পরিচালিত হবে, কিভাবে কার্যক্রম চলবে তা সরকার নির্ধারণ করবে। এ বিষয়ে নতুন একটি আইন প্রণয়ন হচ্ছে। তার মাধ্যমে বাহিনীর জন্য একটি নতুন ও শুভ অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে আমরা মনে করছি।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ ও বিচারাধীন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং তদন্তও হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো বিচারাধীন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। বিচারাধীন প্রক্রিয়াগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সত্যের সাথে আছি, ন্যায়বিচারের পক্ষে আছি। সরকারের পক্ষ থেকে হোক কিংবা বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে হোক, যখন যেভাবে নির্দেশনা দেয়া হবে, আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে সেগুলো পালন করার চেষ্টা করব।

নতুন বাহিনী গঠনের পর বিচারাধীন মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, নতুন আইনের খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষ তাদের সুচিন্তিত মতামত দিতে পারছেন। এসব মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবে।

তিনি আরো বলেন, নতুন আইনের শেষাংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে আইন প্রণয়নের সময় র‌্যাবের আওতায় যেসব সদস্যের বিচারাধীন মামলা রয়েছে, তাদের বিচার কার্যক্রম আগের আইন অনুযায়ী চলমান থাকবে।

র‌্যাবের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অতীতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালক র‌্যাবের পক্ষ থেকে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। বাহিনী হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সে কাজ ইতোমধ্যে করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন আইনকে শুধু র‌্যাবের নাম পরিবর্তন হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কাঠামোগত বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোন বাহিনী কিভাবে কাজ করবে, কোন বাহিনীর অধীনে থাকবে এবং বাহিনীর হায়ারার্কি কী হবে এসব বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাহিনীর কোনো সদস্য অন্যায় বা দুর্নীতির সাথে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টিও নতুন আইনে গুরুত্বের সাথে রাখা হয়েছে। সদস্য যে পর্যায়েই থাকুক সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ জন্য কোন কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সেই কমিটিতে কারা থাকবেন, সেসব বিষয়ও আইনে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

‘আমরা মনে করছি, এটি একটি বড় সংস্কার। এই সংস্কারের মাধ্যমে পূর্বের অভিযোগ ও অন্যায়গুলো থেকে আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করছি,’ যোগ করেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অব্যাহত সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনে গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোর্স চলাকালীন ফেলোদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, কৌশলগত উপলদ্ধি সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ হিসেবে ক্যাপস্টোন কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি গঠনমূলক চিন্তাধারার বিকাশ, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, এনডিসির অনুষদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।