আইনি ভিত্তি পর্যালোচনার পর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আজ রোববার সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সদস্যদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
আইপিএল থেকে ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়া হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, এ বিষয়ে আইনি ভিত্তি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেছেন, ‘চুপ করে বসে থাকার উপায় নেই। একটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে হচ্ছে।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টা হচ্ছে যে খেলাটা যদি খেলার জায়গায় আমরা রাখতে পারতাম খুবই ভালো হতো। কিন্তু আনফরচুনেটলি (দুর্ভাগ্যবশত) খেলাটার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সময় আমরা কী বলি? দু’টি দেশের মধ্যে যদি রাজনৈতিক টেনশন থাকেও, যেকোনো দু’টি দেশ, আমি বাংলাদেশ-ভারত, বাংলাদেশ-নেপাল এরকম বলছি না, ভারত-নেপাল, ভারত-মালদ্বীপ- এটা বলছি না, বলছি দু’টা দেশের মধ্যে যদি রাজনৈতিক টেনশন থাকেও বলে যে সাংস্কৃতিক এক্সচেঞ্জ, খেলাধুলা, এগুলোর মাধ্যমে এটা কমিয়ে আনা যায়। এখানে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো কাজটা (মোস্তাফিজকে বাদ দেয়া) করা হয়েছে।’
রিজওয়ান হাসান বলেন, বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে নিশ্চিত করার পরে, তাকে রাজনৈতিক যুক্তিতে যেটা আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, বলা হচ্ছে যে, ওকে নেয়া হবে না। তো এরকম সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশের জনগণেরও তো মনে একটা আঘাত লাগে। তাদের মধ্যেও একটা প্রতিক্রিয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘সেরকম জায়গায় আমাদেরও একটা অবস্থান নিতে হবে। আমরা সেই অবস্থানের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করছি। এটি করার পরে আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
অর্থ উপদেষ্টা দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা কমানোর কথা বলেছিলেন। এটা সেই কথার সাথে দ্বন্দ্ব তৈরি করবে কি না জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি মনে করি না এটির সাথে অর্থ উপদেষ্টা মহোদয় যেটা বলেছেন, সেটা কনফ্লিক্টিং (দ্বান্দ্বিক) হবে। কারণ এখানে একটা সিচুয়েশন আমার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমাকে সেটার বিরুদ্ধে একটা ব্যবস্থা নিতে হবে, সেটার ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার তো চুপ করে বসে থাকার উপায় নেই। কোন যুক্তিতে মোস্তাফিজকে মানা করা হচ্ছে? যে যুক্তিতে মানা করা হচ্ছে, সেই যুক্তিটা তো আসলে আমরা কোনোভাবেই গ্রহণ করতে পারি না। ফলে সেখানে আমাদের একটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে হচ্ছে।‘



