নেপালে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশভিত্তিক মানবিক সংগঠন আল-মারকাজুল ইসলামী। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মাদরাসা-মসজিদ পুনর্নির্মাণেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টমবর) নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি ইনামুল হাসান খান ফয়সাল আজহারীর নেতৃত্বে এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আল-মারকাজুল ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল নেপালে পৌঁছায়। পরে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেয় দলটি। এরপর শুরু হয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম।
পাঁচ হাজার পরিবারের জন্য ত্রাণ
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জনানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে আল-মারকাজুল ইসলামী। প্রতিটি পরিবারের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্যাকেজ বিতরণ করা হচ্ছে। এসব প্যাকেজে রয়েছে পরিবারের প্রয়োজনীয় পোশাক, স্যানিটারি ন্যাপকিন, শিশুদের ডায়াপার এবং ২৫ কেজি ওজনের ফুড হ্যাম্পার।
ত্রাণের প্যাকেজ প্রস্তুত ও বিতরণ কার্যক্রমে নেপালের হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম স্বেচ্ছাসেবীরাও অংশ নিচ্ছেন। ধর্ম-বর্ণের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।
তারা জানায়, শুধু ত্রাণ বিতরণে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দ্বিতীয় ধাপে পুনর্বাসন কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। এ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে গ্যাস সিলিন্ডার, চুলা ও প্রয়োজনীয় কিচেন সামগ্রীর পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাদরাসা-মসজিদ পুনর্নির্মাণ
বন্যা ও ভূমিধসে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত একটি মাদরাসা ও মসজিদ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগও নিয়েছে আল-মারকাজুল ইসলামী। পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিকভাবে ৫০ জন শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ গার্ডিয়ানশিপ গ্রহণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
দুর্যোগের কারণে এসব শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ যেন অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
আল-মারকাজুল ইসলামী জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই তাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। নেপালের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ কার্যক্রমে মানবিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বার্তাও তুলে ধরা হচ্ছে।



