বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন জুয়া সাইটের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের অভিযোগে অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর মিডিয়া উইংয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজশাহী ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শাখার একটি দল।
গ্রেফতার দুইজন হলেন নড়াইলের সৈয়দ জামান (২৭) এবং যশোরের রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী (২৮)। এদের মধ্যে সৈয়দ জামানকে ওইদিন দুপুরে রাজশাহী জেলার চন্দ্রিমা থানার পদ্মা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দিবাগত রাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানার কোটচাঁদপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পীকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম দেখতে পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালনার তথ্যও পাওয়া যায়। পরে বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি পল্টন থানায় মামলা করে। মামলা দায়েরের পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে জানতে পারে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের অ্যাজেন্ট নিয়োগ করতেন। তাদের এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে বেটিং সাইটে ব্যবহার করা হতো।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাজেন্টরা কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থ বিদেশে পাচার করতেন।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন ছিলেন সৈয়দ জামান। তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার অ্যাজেন্ট নিয়োগ এবং তাদের সিম ও ব্যাংক হিসাব সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে যুক্ত করার সাথে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেফতার সৈয়দ জামান ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী নিজেদের নামে নিবন্ধিত অ্যাজেন্ট সিম অনলাইন জুয়া সাইটে সক্রিয় করার পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাজেন্টের সিম সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে যুক্ত করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা অনলাইন জুয়া সাইটের অর্থ জমা ও উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণেও জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়।
এদিকে একই মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে সিআইডি আরো আটজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
এর আগে, রোববার (৭ জুন) টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো: সোলায়মান (৪৭), মো: সাগর মিয়া (২৮) ও মো: জুয়েল রানা (৩২)-কে গ্রেফতার করা হয়।
এরপরেও মঙ্গলবার (১৬ জুন) নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মো: রায়হান খান (২১), মো: পাভেল রহমান ভূইয়া (২৩) ও আবু জোবায়ের সানি (৩৬) এবং রোববার (১২ জুলাই) নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো: জসিম উদ্দীন (৩৩) ও সুমন রায় (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার পার্সোনেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শাখা। এ চক্রের সাথে দেশের বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং অবৈধভাবে লেনদেন করা অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
মামলার তদন্তে অনলাইন বেটিং সাইটের পরিচালনাকারী, অ্যাজেন্ট, অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত এমএফএস ও ব্যাংক হিসাবের মালিক এবং চক্রটির দেশী-বিদেশী অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সিআইডি দেশের জনগণকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছে। একইসাথে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করার এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।



