রাষ্ট্রপতি

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘের আহবানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস ২০২৬’ পালনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এই উপলক্ষ্যে আমি দেশের সকল তরুণ-তরুণী, শিক্ষক, প্রশিক্ষক, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং দক্ষতা উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন |সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন বলেছেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে যুগোপযোগী জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘের আহবানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস ২০২৬’ পালনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এই উপলক্ষ্যে আমি দেশের সকল তরুণ-তরুণী, শিক্ষক, প্রশিক্ষক, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং দক্ষতা উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’

তিনি বলেন, যুবসমাজ একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই তাদের আধুনিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে বৈশ্বিক শ্রমবাজার প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ই-কমার্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিক্স, ব্লকচেইন, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), সাইবার সিকিউরিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ন্যানোপ্রযুক্তিসহ ডিজিটাল প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দেশী-বিদেশী শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ কর্মী, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান উন্নয়নমুখী সরকার তরুণ ও যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমন্বিত, মানসম্মত এবং ভবিষ্যতমুখী কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

মো: সাহাবুদ্দিন বলেন, কারিকুলাম প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, জাতীয় দক্ষতা সনদ প্রদান এবং মানোন্নয়ন ও মান তদারকি ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদায়নসহ সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে কাঙ্ক্ষিত অবদান রাখতে সক্ষম হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং শিল্প-বাণিজ্যসহ সব খাতের অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একইসাথে তরুণ সমাজকে দক্ষতা অর্জনে আরো উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

তিনি ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। সূত্র : বাসস