ওপর লেভেলের চাপেই আমাকে ফাঁসানো হয়েছে : সুরভী

আমার বয়স ১৭ বছর। আমার পরীক্ষা আছে তাই আমি জামিন চেয়েছিলাম। যারা আমাকে অনেক হেল্প করেছেন যারা তাদের অনেক ধন্যবাদ। আমি ১১ দিন জেলে ছিলাম। আমাকে দুইবার রিমান্ড দেয়া হয়। কোনো প্রমাণ না থাকলেও আমাকে রিমান্ড দেয়া হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী |সংগৃহীত

আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী অভিযোগ করেছেন, ওপর লেভেলের চাপেই তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আমার মাকে বলেছেন, ওপর লেভেলের চাপ আছে বলেই আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমার প্রশ্ন, ওপর লেভেলের লোক কে?

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন এ জুলাইযোদ্ধা।

সুরভী বলেন, ‘মামলার বাদি কথিত সাংবাদিক দুর্জয় যখন মামলা দায়ের করে, তখনও শুনেছি ওপর লেভেলের চাপ আছে। অথচ, কোর্টে ম্যাজিস্ট্রেট যখন প্রশ্ন করল, এক নম্বর বিবাদির বিরুদ্ধে আপনার কাছে কোনো প্রমাণ আছে কি না, তিনি বললেন, না। তাহলে কেন আমার রিমান্ড মঞ্জুর হইল—ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আমার প্রশ্ন।’

‘দুর্জয় আমার কাছে আপসনামা নিয়ে আসে। আমি সেখানে সই করিনি। আমি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার একটি মামলা করেছিলাম। সেই প্রেক্ষিতে আমার কাছে আপসনামা নিয়ে আসে।’

শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সুরভী বলেন, ‘আমি এটিও বলব, যে প্রমাণগুলো আমি সামাজিকমাধ্যমে ছেড়েছি, সেগুলো যদি একটু ভালোভাবে খেয়াল করেন, তাহলেই বুঝবেন।’

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন রেখে সুরভী বলেন, ‘আপনার ঢাকার সাংবাদিক, আপনারা যখন ঢাকার বাইরে কাজে যাবেন, অবশ্যই অফিসকে ইনফর্ম করবেন। আমি যদি ওকে নিউজের কথা বলে গাজীপুর নিয়ে যাই, ও কেন অফিসকে ইনফর্ম করল না? অফিসকে ইনফর্ম না করেই ও গেছে, এ জন্য ওকে বাংলাদেশে প্রতিদিন থেকে বের করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বয়স ১৭ বছর। আমার পরীক্ষা আছে তাই আমি জামিন চেয়েছিলাম। যারা আমাকে অনেক হেল্প করেছেন যারা তাদের অনেক ধন্যবাদ। আমি ১১ দিন জেলে ছিলাম। আমাকে দুইবার রিমান্ড দেয়া হয়। কোনো প্রমাণ না থাকলেও আমাকে রিমান্ড দেয়া হয়। আমি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছিলাম না।’

সুরভী আরো বলেন, ‘এই মামলা থেকে শুধু জামিন দিলেই হবে না। আমাকে এই মামলা থেকে পুরোপুরি নিষ্পত্তি দিতে হবে। কারণ, এই মামলায় আমি আর থাকতে চাচ্ছি না। মামলাগুলা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাক, এতটুকুই অনুরোধ।’

এর আগে, গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে সুরভীকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। টঙ্গী এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে সুরভী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও জুলাইযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। তাকে ঘুম থেকে তুলে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। গ্রেফতারের পর ঘুমন্ত অবস্থা থেকে পুলিশ সুরভীকে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।