চামড়া বাজারে ধসের মূল কারণ বিশ্লেষণ

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ, আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ছাড়া চামড়া শিল্পের সঙ্কট কাটানো সম্ভব নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
কোরবানির চামড়া প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শ্রমিকরা
কোরবানির চামড়া প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শ্রমিকরা |সংগৃহীত

বাংলাদেশে কোরবানির ঈদের সময় বেশির ভাগ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হলেও গত কয়েক বছর ধরে বাজারে ধারাবাহিক দরপতন দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত সনদের অভাব, ট্যানারি মালিকদের মূলধন সঙ্কট এবং মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের একচেটিয়া কারসাজি- এই তিনটি প্রধান কারণেই চামড়া শিল্পে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

প্রথমত, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা (সিইটিপি) পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডাব্লিউজি) সনদ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার বড় ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি চামড়া বা চামড়াজাত পণ্য কিনছে না।

দ্বিতীয়ত, ট্যানারি মালিকরা ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত ঋণ পান না এবং আড়তদারদের পুরনো বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় বাজারে নগদ টাকার সঙ্কট দেখা দেয়। এতে মাঠপর্যায়ে চামড়া কেনার আগ্রহ কমে যায়।

তৃতীয়ত, সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ায় ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের একটি সিন্ডিকেট মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আর্থিক সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে পানির দরে চামড়া কিনে থাকে। এতে সাধারণ বিক্রেতা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হন।

এছাড়া লবণ ও কেমিক্যালের উচ্চমূল্য চামড়া সংরক্ষণের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। গবাদিপশুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অজ্ঞতার কারণে অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায়, যা বাজারে ন্যায্য দাম পায় না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ, আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ছাড়া চামড়া শিল্পের সঙ্কট কাটানো সম্ভব নয়।