প্রশংসায় ভাসছে সশস্ত্রবাহিনী

ভোট দিলেন তিন বাহিনী প্রধান

গতকাল সূর্য ওঠার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা সশস্ত্রবাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভোট কেন্দ্রের বাইরে নির্বিঘ্নে ভোটারদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্রবাহিনীর নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার কারণে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সশস্ত্রবাহিনীর প্রশংসায় ভাসছে দেশ।

এস এম মিন্টু
ভোট দিচ্ছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান (বাঁয়ে), বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান (মাঝে) ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান
ভোট দিচ্ছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান (বাঁয়ে), বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান (মাঝে) ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান |আইএসপিআর

নানা জল্পনা-কল্পনা ও সহিংসতা মুক্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সূর্য ওঠার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা সশস্ত্রবাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভোট কেন্দ্রের বাইরে নির্বিঘ্নে ভোটারদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্রবাহিনীর নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার কারণে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সশস্ত্রবাহিনীর প্রশংসায় ভাসছে দেশ।

দেড় বছর ধরে এ দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম একটা সুষ্ঠু নির্বাচন : সেনাপ্রধান

এমন উৎসবমুখর ভোট ছোটবেলায় দেখেছিলাম : বিমানবাহিনী প্রধান

জনগণ তাদের ভোটাধিকার দিতে সক্ষম হয়েছে : নৌবাহিনী প্রধান

সকাল সাড়ে ১০টায় সেনাপ্রধান প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আদমজী ক্যান্টেনমেন্ট কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেয়া শেষে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। আমি মনে করি যে আজকে আমাদের জাতির জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন, আনন্দের দিন। আমরা গত দেড় বছর ধরে এ দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন। আজকে আলহামদুলিল্লাহ, সে নির্বাচন হচ্ছে।

সেনাপ্রধান বলেন, সকাল থেকেই সারা দেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে এবং ভোটের একটা অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। আমি সকালেই খবর নিয়েছি সারা বাংলাদেশে কোথায় কী হচ্ছে। খবর পেয়েছি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন চলছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, সম্মানিত ভোটারদের অনুরোধ করব, আপনারা নির্ভয়ে আপনাদের বাসা থেকে বের হয়ে কেন্দ্রে যাবেন এবং আপনাদের ভোট দেবেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা ভোট দিতে পারছেন না, মিডিয়ার লোকজন আপনারা কিন্তু একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। সারা দেশের পরিস্থিতি জনগণকে জানাচ্ছে। জনগণ আশ্বস্ত হচ্ছে এবং তারা এই ভোট দিতে যাওয়ার জন্য উৎসাহী হচ্ছে। সবশেষে সবার মঙ্গল কামনা করে তিনি বলেন, ইনশা আল্লাহ, আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে সম্ভব হবো।

বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশন অনেক কাজ করেছেন এই নির্বাচনের জন্য। এটা আমরা উৎসবমুখরভাবে করতে চেয়েছিলাম। আজকে অনেক বছর ধরে ভোট দিচ্ছি। অনেক বছর পর একটা সত্যি উৎসবমুখর ভোট দেখছি, যেটা হয়তো বা আমি একদম ছোটবেলায় দেখেছিলাম। ইনশা আল্লাহ, দিনের শেষে আমরা একটা সুন্দর নির্বাচনের আশা করছি।

প্রথম মহান আল্লাহ তায়ালার শুকুর গুজার করে বিমানবাহিনীর প্রধান বলেন, আল্লাহ আমাদের আজকে এই দিনটা দিয়েছেন। আমাদের বাংলাদেশের জনগণের একটা বহুল প্রতীক্ষিত দিন। আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিলাম। গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসতে চেয়েছিলাম। আজকে এই সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ইনশা আল্লাহ আমাদের আকাক্সক্ষা পূরণ হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকে আমি সকাল থেকে সারা দেশের খবর পাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ আমাদেরও আশার বাইরে এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। কোথাও কোনো রকমের কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাইনি। যারা এখনো অপেক্ষায় আছেন, তারা বাসা থেকে বের হয়ে ভোট দিতে আসেন। সবাই ভোট দেন, যাতে আমাদের একটা রেকর্ডসংখ্যক ভোট এবার পরে।

তিনি আরো বলেন, ভোট গণনার মাধ্যমে যেই জয়ী হবেন আমরা তার কাছ থেকে নতুন দেশের প্রত্যাশা করব- এটাই ছিল আমার বক্তব্য। আরেকটা কথা বলব যে সশস্ত্রবাহিনীর সাথে বিমানবাহিনীও সব জায়গায় যেখানে আমাদের নিয়োজিত থাকার কথা, আমরা নিয়োজিত আছি। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অসামরিক প্রশাসনের সাথে কাজ করছি, যাতে নিñিদ্র নিরাপত্তায় রাখতে পারি।

বিমানবাহিনীর প্রধান বলেন, যেকোনো ভোটকেন্দ্রে আমাদের আকাশ থেকেও পর্যবেক্ষণ জারি আছে, বিভিন্ন অঞ্চলে প্রত্যন্ত এলাকায় বিশেষ করে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে আমরা মনিটর করছি। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ঘটনা দুর্ঘটনার রিপোর্ট আমার কাছে আসেনি।

নৌবাহিনী প্রধান ভোট দিলেন : রাজধানীর বারিধারা স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। পরে তিনি বলেন, সকাল থেকেই আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন শুরু হয়েছে। জনগণ তাদের ভোটারধিকার প্রয়োগে সক্ষম হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কথা জানতে পেরেছি। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমার বিশ্বাস সুন্দর একটি নির্বাচন জনগণকে উপহার দিতে পারব।

বুধবার রাত থেকেই সারা দেশের কেন্দ্রগুলোর বাইরে পাহারায় ছিল সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা। ভোট শুরু আগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনায় তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সমাধান হয়। এছাড়াও মুন্সীগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে ককটেল ও কেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা তৈরি চেষ্টা করার সময় সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে।

এবারের নির্বাচনী মাঠে শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল ও তল্লাশি চৌকি বসিয়েও দায়িত্ব পালন করছেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা। সার্বিক এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোতায়েন করা হয় সশস্ত্রবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য। পাশাপাশি এই সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ মাঠে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, ভোটের মাঠে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার সর্বমোট আট লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য। এর মধ্যে সশস্ত্রবাহিনীর এক লাখ আট হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন, যার মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রায় এক লাখ, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার ও বিমানবাহিনীর তিন হাজার ৭৩০ সদস্য। এ ছাড়াও মোতায়েন রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রক্ষার প্রধান সংস্থা বাংলাদেশ পুলিশের এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ সদস্য, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের তিন হাজার ৫৮৫, র‌্যাবের সাত হাজার ৭০০, এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য।