দেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে এমন চুক্তি কাউকে করতে দেবো না : মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে এমন কোনো চুক্তি কাউকে করতে দেবো না, এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। বাংলাদেশের স্বার্থ সর্বাগ্রে।

অনলাইন প্রতিবেদক
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |নয়া দিগন্ত

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে আমরা কখনোই এমন কোনো চুক্তি কাউকে করতে দেবো না, এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। বাংলাদেশের স্বার্থ সর্বাগ্রে।

আজ শনিবার রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ফারাক্কা লং মার্চ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ফরাক্কা দিবস এখন আমাদের কাছে একটা প্রতীক- প্রতিরোধের একটা প্রতীক। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, যিনি সারাজীবন জনগণের জন্য সংগ্রাম করেছেন, কথা বলেছেন এবং কখনো ক্ষমতার কাছে যাননি কিংবা ক্ষমতার দিকে তাকাননি। তিনি সারাজীবন এই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। মাওলানা ভাসানীকে আমি প্রথমেই আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা জানাই এবং আমাদের সবার ভালোবাসা জানাতে চাই। সেদিন তিনি এই দেশের মানুষ, বিভিন্ন দল ও ব্যক্তিত্বদের নিয়ে যে প্রতিরোধ রচনা করেছিলেন। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করা। প্রতিবেশী দেশ কিছু মানুষের ওপর যে অন্যায় করছে, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। এ অন্যায়টি শুধু কোনো ছোটখাট অপরাধ বা অন্যায় নয়; এটি হচ্ছে বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন।

তিনি বলেন, আমরা জানি, গঙ্গা বা পদ্মা নদী আমাদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা ও জীববৈচিত্র্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। সেই নদীতে বাঁধ অর্থাৎ ফারাক্কা বাঁধ নির্মিত হলে এই দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা বিনষ্ট হবে, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হবে এবং পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। তখন সেই কথাটি তুলেছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সেদিন তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে জনগণকে সামনে নিয়ে যদি একটা শক্তি পৃথিবীতে দেখানো যায় এবং তারপর সেটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হয়, তাহলে তা অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। তিনি সেই কাজটাই করেছিলেন। যার ফলে তিনি যে চুক্তি করেছিলেন, সেই চুক্তিটা নিঃসন্দেহে অনেকাংশে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে গিয়েছিল।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার। তারেক রহমানের সরকার জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে। আজকে এই সরকারের বিরুদ্ধে কিছু শক্তি অপপ্রচার চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশের যে স্থিতিশীলতা আছে, সেই স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করার একটা পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এই সম্পর্কে আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাদের অনেক বেশি সজাগ হতে হবে। শুধু সজাগ নয়, আমাদের সংগঠিত হতে হবে, যাতে কোনো রকম চক্রান্ত আমাদের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পরিপূর্ণ করার জন্য যে সরকার এসেছে, তার স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে না পারে।