মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও আমরা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তটি নিইনি। এ খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার চেষ্টা করছে আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিচলিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যতা বর্জন এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে অমিতব্যয়িতা পরিহার করার অনুরোধ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও আমরা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তটি নিইনি। এ খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার চেষ্টা করছে আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।’

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার।’

তিনি বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমরা যেন সবাই রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে, এমনকি পারিবারিক পর্যায়ে অমিতব্যয়িতা পরিহার করি, তার জন্য আমি দেশের সব মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসনকাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

দেশে বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি খাতকে চিহ্নিত করে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।

এর আগে, জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, যুদ্ধাহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

স্বাধীনতা পুরস্কারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা দেশ এবং জনগণের জন্য স্মরণীয় অবদান রেখেছেন, তাদেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তন করেছিলেন।

ইতিহাসের সত্যতা স্বীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যদি হীন দলীয় স্বার্থে আমাদের ইতিহাসের জাতীয় নেতাদের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে কার্পণ্য করি, তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাস আমাদেরও ক্ষমা করবে না। আমি বিশ্বাস করি, ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে দ্বিধাচিত্তে থাকা হীনমন্যতার পরিচায়ক।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। আমাদের পথ, মত ভিন্ন হতে পারে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক-বিরোধ থাকতে পারে, তবে তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। কারণ বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। ইউএনবি