ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়ম : ৮ জনের নামে দুদকের মামলা

দুদকের তদন্তে উঠে আসে, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বাড়ি নম্বর ৭১১ (নতুন ৬৩), সড়ক নম্বর ১৩ (নতুন ৬/এ) প্রকল্পে ২২২তম ও ২২৫তম বোর্ড সভার মাধ্যমে নকশা অনুমোদনে অনিয়ম করা হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) |সংগৃহীত

ধানমন্ডির ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পে বিধিবহির্ভূত ও বৈষম্যমূলকভাবে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগে সাবেক বিচারক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনারসহ আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুদক প্রধান কার্যালয়ে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো: আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

দুদক জানায়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ সিপ্লেক্স ফ্ল্যাটের পরিবর্তে প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের দু’টি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেয়া হয়। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে উঠে আসে, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বাড়ি নম্বর ৭১১ (নতুন ৬৩), সড়ক নম্বর ১৩ (নতুন ৬/এ) প্রকল্পে ২২২তম ও ২২৫তম বোর্ড সভার মাধ্যমে নকশা অনুমোদনে অনিয়ম করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ডি-১২ ও ডি-১৩ এবং সি-১২ ও সি-১৩ নম্বর ফ্ল্যাট একত্রিত করে যথাক্রমে চার হাজার ১০৫.০৫ বর্গফুট ও চার হাজার ৩০৮.৬৮ বর্গফুট আয়তনের দু’টি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট অনুমোদন দেয়া হয়।

দুদক জানায়, মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার মো: জহুরুল হক, সাবেক সিনিয়র সচিব ও দুদকের সাবেক কমিশনার ড. মো: মোজাম্মেল হক খান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মো: দেলওয়ার হায়দার, কর্তৃপক্ষটির সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো: শাহজাহান আলী, সাবেক সদস্য (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ড. মো: মইনুল হক আনছারী, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা, নকশা ও বিশেষ প্রকল্প) বিজয় কুমার মন্ডল, সাবেক সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) কাজী ওয়াসিফ আহমাদ এবং সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল (সিনিয়র জেলা জজ) সৈয়দ আমিনুল ইসলাম।

দুদক আরো জানায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আরো ১০ ব্যক্তির নামে অতিরিক্ত সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সম্পদের প্রকৃত হিসাব ও উৎস যাচাইয়ের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাসস