নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রেস সচিব

‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ্লিকেশন’ ব্যবহার করা হবে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রভিত্তিকভাবে ব্যবহার করবেন। জানুয়ারির মধ্যেই অধিকাংশ নিরাপত্তা সদস্যের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রেস সচিব শফিকুল আলম
প্রেস সচিব শফিকুল আলম |ইন্টারনেট

নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আজ বুধবার ঢাকার ফরেন সার্ভস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন যে এই নির্বাচন যেন নিখুঁতভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশ গর্ব করে বলতে পারে, এটি একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনী অবকাঠামো সম্পর্কে তিনি বলেন, সারাদেশে ৩০০টি নির্বাচনী আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি এবং ভোটিং বুথ দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৯টি। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।

তিনি জানান, আজ প্রতীক বরাদ্দের দিন। আজ মধ্যরাত থেকে পোস্টাল ব্যালট ছাপা শুরু হবে এবং আগামীকাল সকাল থেকে তা পূর্ণমাত্রায় চলবে।

তিনি আরো জানান, এবারের নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে এই সংখ্যা ১৫ থেকে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ জন পর্যন্ত হতে পারে।

প্রেস সচিব জানান, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজার পাঁচ শ’টি বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এসব ক্যামেরা ইতোমধ্যে সরবরাহ ও ব্যবহারোপযোগী হয়েছে।

তিনি বলেন, কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দ্রুত সাড়া দেবে। এবার প্রথমবারের মতো এক লাখের বেশি সেনাসদস্য, পাঁচ হাজারের বেশি নৌবাহিনী সদস্য এবং তিন হাজার ৭৩০ জনের বেশি বিমানবাহিনী সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিসসহ বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন উদ্যোগ হিসেবে প্রায় পাঁচ শ’ ড্রোন ও ৫০টি ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ড্রোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়।

প্রেস সচিব জানান, ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ্লিকেশন’ ব্যবহার করা হবে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রভিত্তিকভাবে ব্যবহার করবেন। জানুয়ারির মধ্যেই অধিকাংশ নিরাপত্তা সদস্যের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।