জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘মৌলিক সংস্কারের প্রশ্ন যখন আসছে, যখন সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটা সমন্বিত নিয়োগ কমিটির কথা আসছে, তখন সেখানে বিএনপি বেঁকে বসছেন। যখন চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের জন্য উচ্চ কক্ষের পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের কথা আসছে, তখন দলটি সেখান থেকে সরে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র একটা ভাঙ্গা পা নিয়ে চলছে। সেই ভাঙ্গা পায়ে বিএনপি ব্যান্ডেজ করেছে। তারা স্যাভলন দিয়েছে। কিন্তু হাড়টাকে জোড়া লাগাতে হবে, সেই জায়গাটাতে এসে দলটি বেঁকে বসেছে। তাদের (বিএনপির) কথা হলো ব্যান্ডেজ করেছি, স্যাভলন দিয়েছি। এটাই যথেষ্ট। এটাই মেনে নাও। হাড়টাকে জোড়া লাগানো এতদূর পর্যন্ত যাওয়ার প্রয়োজন নাই।’
‘কথা স্পষ্ট, মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে জাতীয় নাগরিক পার্টি কোন ছাড় দেবে না,’ বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, ‘উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে দলগুলোর অন্তত এক শতাংশ ভোট রয়েছে তারাও যদি উচ্চকক্ষে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় সেক্ষেত্রে একটা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার জায়গা আমরা নিশ্চিত করতে পারব।’
তিনি আরো বলেন, ‘অধিক দল পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের আসন বিন্যাসের ব্যাপারে একমত হলেও বিএনপি এবং তাদের সাথে গুটিকয়েক দল পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের নির্বাচন চায় না। এবং সেই না চাওয়ার জায়গাটিকে উচ্চকক্ষের অ্যাজেন্ডাকে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনার আলাপ থেকে বাইরে রাখার একটা প্রবণতা খেয়াল করছি। সংস্কারের আলাপগুলোকে এখন সংখ্যাতাত্ত্বিক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতির মধ্য দিয়ে নির্বাচন হতে হবে। এটাকে আমরা অবশ্যই একটি মৌলিক সংস্কারের অংশ মনে করি। এবং গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক সংস্কারের অংশ বলেই আমরা এটাকে মনে করি। মৌলিক সংস্কারের মোটা দাগের যে বিষয়গুলো আছে সেই প্রশ্নটা উত্থাপিত হলেই বিএনপির তরফ থেকে এবং তাদের সাথে আরো গুটিকয়েক দল তারা সেখানে বাধা তৈরি করছেন এবং তারা সেখানে ঐকমত্যের প্রক্রিয়াকে তারা বাধাগ্রস্ত করছেন। অ্যাজেন্ডাগুলো যাতে ঐক্যমতের আলোচনার মধ্যেই না থাকে তেমন ধরনের একটা পরিবেশ এখানে তৈরি করার চেষ্টা করছেন।’



