চাঁদা বন্ধ করায় বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

শাহীন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর পুলিশ অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন মহল্লা পাহারার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ কাজে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণের জন্য মাইকিংও করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিএনপি নেতা মো: মান্নান হোসেন শাহীন
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিএনপি নেতা মো: মান্নান হোসেন শাহীন |সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় বিএনপি নেতা মো: মান্নান হোসেন শাহীনকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসাথে তাকে চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন মোহাম্মদপুর থানাধীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মান্নান হোসেন শাহীন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

শাহীন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর পুলিশ অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন মহল্লা পাহারার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ কাজে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণের জন্য মাইকিংও করা হয়।

তার অভিযোগ, এর জেরে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চাঁদ উদ্যানের ২ নম্বর রোডের শাপলা ভবনের নিচতলায় বাড়ি মালিক কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে তার ওপর হামলা হয়। হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ৪২টি কোপ দেয়া হয় এবং হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। তিনি ৩৭ দিন আইসিইউতে ছিলেন এবং সব মিলিয়ে সাত মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

শাহীন বলেন, ঠিকমতো হাঁটতে না পারলেও রাজনীতির প্রতি ভালোবাসা থেকে আবার রাজনীতির মাঠে নামেন। আসন্ন নির্বাচনে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর কিশোর গ্যাং ও একটি কুচক্রী মহল তাকে আবার হত্যার পরিকল্পনা করছে বলে তিনি মনে করছেন।

তার দাবি, তিনি কাউন্সিলর হলে তাদের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, জীবনের ঝুঁকি থাকলেও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের যেখানেই চাঁদা নেয়ার খবর পান, সেখানেই গিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।

সবশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে চাঁদ উদ্যানের ৬ নম্বর রোডে সুয়ারেজ লাইনের কাজ করাতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে জানতে পেরে তিনি সেখানে যান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদা দাবিকারীদের মধ্যে মো: নান্নু, নুরুল ইসলাম, হান্নান ও সেন্টুসহ ১৫ থেকে ২০ জন ছিলেন।

শাহীন বলেন, চাঁদার বিরোধিতা করায় তারা তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় তার সাথে থাকা জিসান আহমেদ হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে ডান হাতে গুরুতর আঘাত পান। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

তার অভিযোগ, পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ওই চাঁদাবাজ চক্র তাকে চাঁদাবাজ হিসেবে তুলে ধরে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। একইসাথে কাউন্সিলর প্রার্থী হলে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

শাহীন বলেন, কুচক্রী মহলের হুমকিতে তিনি ও তার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। একবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন উল্লেখ করে তিনি আবারো হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।