সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২০ ধারা বিলুপ্তির প্রস্তাব

মাদক অপরাধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রেখে বিল

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে মাদকাসক্তি ও মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ আদালতে মামলার জট তৈরি হয়েছে এবং বিচার শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এ পরিস্থিতিতে মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অপরাধপ্রবণ এলাকায় পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

সংসদ প্রতিবেদক

মাদকসংক্রান্ত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন, বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন এবং পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল উত্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে সাইবার নিরাপত্তা আইন থেকে জুয়া-সংক্রান্ত ২০ নম্বর ধারা বিলুপ্ত করতে ‘সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলও সংসদে উত্থাপন করা হয়।

গতকাল শনিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম দিনে দুটি বিল উত্থাপন করা হয়। উভয় বিলই যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলটি উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আপত্তি উত্থাপিত হলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে মাদকাসক্তি ও মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ আদালতে মামলার জট তৈরি হয়েছে এবং বিচার শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এ পরিস্থিতিতে মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অপরাধপ্রবণ এলাকায় পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিধান সংযোজন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রাধিকার এবং ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধানও বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সংসদে ‘সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল উত্থাপন করেন। বিলে বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২০ নম্বর ধারা বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে বিলের কপি সময়মতো না পাওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান

অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে স্পিকার বিলটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠান।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়, সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২০ ধারায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা-সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু জুয়া ও বেটিং-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ নামে পৃথক ও বিস্তারিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে একই বিষয় দুটি আইনে থাকার প্রয়োজনীয়তা না থাকায় সাইবার নিরাপত্তা আইন থেকে ২০ নম্বর ধারা বিলুপ্ত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।