রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তে মারা যাওয়া আট অজ্ঞাতনামা লাশের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি অনুমতি দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২৩ জুলাই অজ্ঞাতনামা আট লাশের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির অনুমতি চেয়ে পৃথক আটটি আবেদন করে তুরাগ থানার পুলিশ।
আটটি আবেদনের মধ্যে তুরাগ থানার এসআই আতিউর রহমান তিনটি, এসআই মামুনুর রশীদ দু’টি ও এসআই মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তিনটি আবেদন করেন।
সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার হাসান রাশেদ পরাগ বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, ‘গত ২১ জুলাই রাজধানীর তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই তলা বিশিষ্ট হায়দার আলী ভবনের নিচতলায় সিঁড়ির পাশে ‘এফ-৭ যুদ্ধবিমান’ (প্রশিক্ষণরত) বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থী ও লোকজন হতাহত হয়। এ ঘটনায় পরিচয় শনাক্ত না হওয়া ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৮ ও ৯ নম্বর লাশ সিএমএইচ এর মরচুয়ারিতে পেয়ে সেগুলোর সুরতহাল প্রস্তুত করি এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার ও টিম দ্বারা সিএমএইচ এর মরচুয়ারিতে স্ব-শরীরের হাজির হয়ে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করি। কর্তব্যরত ডাক্তার ময়নাতদন্ত শেষে এসব লাশের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করার জন্য একটি প্লাস্টিকের কৌটায় সিলগালা অবস্থায় প্রদান করেন। ওই নমুনা সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির জন্য আপনার আদালতের অনুমতির বিশেষ প্রয়োজন। অতএব, এসব লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ডাক্তার কর্তৃক সংগৃহীত সিলগালাকৃত নমুনা পরীক্ষাপূর্বক ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির আদেশনামাসহ ক্ষমতাপত্র প্রদানে সদয় মর্জি হয়।’
উল্লেখ, গত ২১ জুলাই দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। বিমান দুর্ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ৫০ জন চিকিৎসাধীন আছেন। তার মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৪০ জন, ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আটজন, শহীদ মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে একজন রয়েছেন।



