পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো: জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেছেন, কাঠামোগত সংস্কার, প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম একটি বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার হলো এমন একটি বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বাজেট ও সরকারের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপে এই রূপকল্প প্রতিফলিত হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘লেবার মার্কেট টাইটনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিগেট শকস : এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশ’স লার্জেস্ট অনলাইন জব পোর্টাল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিআইডিএসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ও জেনারেল ইকোনমিকস ডিভিশনের অধ্যাপক ড. অতনু রাব্বানী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সব উন্নয়ন কর্মসূচি নির্বাচনী ইশতেহার এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন ও সংস্কার কৌশলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যা সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই আগামী ১৭ আগস্ট-এ কৌশলপত্র প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলো যাতে নির্বাচনী ইশতেহার ও আসন্ন কৌশলপত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অতীতে সমন্বয়ের অভাবে অনেক প্রকল্প অনুমোদন দেয়ায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে সাকি বলেন, সরকার এখন বিচ্ছিন্ন প্রকল্পভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে কর্মসূচিভিত্তিক (প্রোগ্রামভিত্তিক) পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যাতে পরস্পর-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলো একসাথে বাস্তবায়ন করা যায়।
তিনি বলেন, ‘সঞ্চালন লাইন, বিতরণ ব্যবস্থা কিংবা দক্ষ জনবল ছাড়া শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কোনো অর্থ নেই।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি সরকার প্রথমে কাঠামোগত অদক্ষতা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অভিন্ন ও বিশেষায়িত রেট শিডিউল প্রণয়নে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্পের ব্যয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে।
তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা অনুমোদিত ব্যয়সীমার সাথে প্রকল্প ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করবে এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সমন্বিত ও একক জাতীয় ডেটা সিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার বেশ কয়েকটি ডিজিটাল উদ্যোগকে একত্রিত করছে।
তিনি বলেন, জরিপ নির্ভর কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো- একটি সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয় তথ্য ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অধিকাংশ সরকারি তথ্য গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজলভ্য করা, যাতে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করা যায়।’ বাসস



