বর্তমানে দেশে ৮০ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে : সম্মিলিত নারী প্রয়াস

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মাদক নিয়ে পাঠ ও শিক্ষাব্যবস্থা তুলে নেয়া হয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক সেবনে খোদার প্রতি ভয় উঠে গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদকাসক্তির কারণে দেশে প্রতিবছর ৫০০ নারী স্বামীর হাতে ও সন্তানের হাতে ২০০-এর বেশি পিতা-মাতা মৃত্যুবরণ করেন বলে জানিয়েছে ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’। সংগঠনের সভানেত্রীরা বলেন, নিম্ন শ্রেণিকে টার্গেট করে দেশে মাদককে সহজলভ্য করে তোলা হয়েছে। এজন্য দেশে ৮০ লাখ মানুষ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। ২০৩০ সালে সংখ্যাটি ১ কোটিতে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত নারী প্রয়াসের উদ্যোগে মানিক মিয়া হলে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘শৃঙ্খলা ভাঙ্গার প্রত্যয়: প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন’। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সাবিনা ইয়াসমিন, ড. লাসনা কবির ও ঢাকা কলেজের অধ্যাপক সালেহা ইয়াসমীন ইসলাম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভাপতি প্রফেসর ড. শামীমা তাসনীম, সমাপনী বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ড. ফেরদৌস আরা বকুল, কবিতার রচয়িতাসহ সভাপতি ডা: শাহীন আরা আনওয়ারীর সম্মিলিত নারী প্রয়াস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, মাদক সমাজের জন্য ক্যান্সারের আকার ধারণ করেছে। দেশের একটি প্রজন্ম পুরোটাই মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। এর জন্য সমাজের রাজনৈতিক নেতারাও দায়ী। মাদকের প্রতিরোধে আইনের প্রয়োগ অত্যান্ত জরুরি।

মাদকের বিস্তারে শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় গুরুত্ব কমিয়ে আনা বড় এক কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মাদক নিয়ে পাঠ ও শিক্ষাব্যবস্থা তুলে নেয়া হয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক সেবনে খোদার প্রতি ভয় উঠে গেছে।

মূল প্রবন্ধে ড. শামীমা বলেন, এক সন্তান তার মাকে বলছে আমাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখ, আমি বাঁচতে চাই। সঠিক তথ্যের অভাব, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে দূরে চলে যাওয়া আমাদের সন্তানদের মাদকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সমাপনী বক্তব্যে ড. ফেরদৌস আরা বকুল বলেন, একটি সন্তান মাদকে জড়িয়ে পরলে তা পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। আমাদের চারিদিকের বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে সন্তোনদের দূরে রাখতে হবে। পরিবারে ধর্মীয় চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে।