সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল পাস

সচিবালয়ে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরির শর্তাবলী ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের পূর্ববর্তী আইনের আওতায় ফিরে যাবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতীয় সংসদ
জাতীয় সংসদ |ইন্টারনেট

জাতীয় সংসদ ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ পাস করেছে; যার মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের জন্য সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন সচিবালয় বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটির মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বাতিল করা হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের প্রয়োজনীয়তা ও কাঠামো নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আরো আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

যদিও পূর্বের অধ্যাদেশগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জারি করা হয়েছিল; তবে প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে সরকার এখন এই আইনি বিধানগুলো পুনঃমূল্যায়ন করতে চায়।

আইনটি কার্যকর হলে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে এবং এ সংক্রান্ত সব পদ বাতিল করা হবে। সচিবালয়ের অধীনে থাকা সব বাজেট, প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগে স্থানান্তর করা হবে।

তবে রেজিস্ট্রি, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং অধস্তন আদালতের জন্য ব্যবহৃত সাংগঠনিক কাঠামো, যানবাহন ও অফিস সরঞ্জাম অপরিবর্তিত থাকবে এবং এগুলো আইন ও বিচার বিভাগের অধীনেই পরিচালিত হবে।

সচিবালয়ে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরির শর্তাবলী ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের পূর্ববর্তী আইনের আওতায় ফিরে যাবে।

বিলে আরো বলা হয়েছে, বাতিলকৃত অধ্যাদেশগুলোর অধীনে গৃহীত সব কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত আইনগত সুরক্ষা পাবে; যাতে সচিবালয়ের সময়কালে সম্পন্ন প্রশাসনিক কাজগুলো বৈধ থাকে।

বিলটি সংসদে উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের সদস্য নজিবুর রহমান আপত্তি জানান।

জবাবে আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেন, কোনো আইন অসাংবিধানিক কি না; সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বিশ্বের অন্যতম সেরা আদালত; যেখানে বিচারকদের চাকরি, বদলি ও পদায়ন সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত।

তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিলেও তা উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করা হয় এবং বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।