বিমান দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের

গত বছর এমন সময় আমরা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি। এক বছর পর, আবারো মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা জাতি শোকে মুহ্যমান।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন |সংগৃহীত

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৭তম দিনের বৈঠকের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

এর আগে, আলোচনার শুরুতে এই দুর্ঘটনার হতাহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার।

এ সময় কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো: এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, ড. মো: আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

এই শোক প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও কমিশনের সদস্যরা।

নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘গত বছর এমন সময় আমরা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি। এক বছর পর, আবারো মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা জাতি শোকে মুহ্যমান। কোনো ক্ষতিপূরণই এই হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য যথেষ্ট নয়। তবুও আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া, আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হয়। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, রাষ্ট্রকে সে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় দুর্যোগের এই সময়ে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উচিত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো। এই সংকটময় মুহূর্তে সবাই যেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহমর্মিতা ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

এর আগে, গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া ৩টায় দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে কমিশনের নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়।

আজকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত প্রস্তাব তৈরি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান সংক্রান্ত আলোচনা।

ড. আলী রীয়াজ জানান, প্রধানমন্ত্রীর পদে দলীয় প্রধান থাকা যাবে না, এ বিষয়ে বেশিভাগ রাজনৈতিক দল একমত হলেও কয়েকটি দল ভিন্নমত দিয়েছে। তারা জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করতে পারবেন।

তিনি সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করতে চাই।

বৈঠকে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাসভা বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। সূত্র : বাসস