পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। দেশের গুরুত্বপূর্ণ রফতানি খাত চামড়া শিল্পকে সুরক্ষা দিতে স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো: আশিকউজ্জামান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের মোট সংগ্রহকৃত চামড়ার প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ ঈদুল আজহার সময় সংগ্রহ করা হয়। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রফতানি খাত হিসেবে বছরে প্রায় এক দশমিক পাঁচ থেকে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখছে। তবে সঠিক সংগ্রহ ও সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জাতীয় অর্থনীতিতে।
এ বাস্তবতায় “আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার মোদের দেশ গড়ার” স্লোগানকে সামনে রেখে স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যদের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
বাহিনীটি জানায়, খুলনা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন ২৯ জেলায় মোট চার হাজার ১৫৩ জন ভিডিপি সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আয়োজিত প্রশিক্ষণে চামড়া ছাড়ানোর সঠিক পদ্ধতি, পরিষ্কারকরণ, নির্ধারিত মাত্রায় লবণ প্রয়োগ, সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়া হয়।
ঈদের দিন থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভিডিপি সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির স্থানে উপস্থিত থেকে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তা করছেন। চামড়ায় আঁচড় বা ছিদ্র যেন না হয় সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানোর ক্ষেত্রেও সহায়তা করছেন তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, চামড়া ছাড়ানোর পর সরাসরি রোদে না রেখে ছায়াযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ, গোশত ও চর্বি পরিষ্কার করা এবং সঠিকভাবে লবণ প্রয়োগের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। একটি মাঝারি বা বড় গরুর চামড়ার জন্য আট থেকে ১০ কেজি এবং ছাগল বা ভেড়ার চামড়ার জন্য দুই থেকে দুই দশমিক পাঁচ কেজি লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন ভিডিপি সদস্যরা।
এছাড়া বিভিন্ন এতিমখানা ও স্থানীয় সংরক্ষণ কেন্দ্রে চামড়ার স্তূপে যথাযথভাবে লবণ প্রয়োগ নিশ্চিত করতেও তারা ভূমিকা রাখছেন বলে জানানো হয়। এতে পরবর্তী সময়ে ঢাকার ট্যানারি সংগ্রহকেন্দ্রে পাঠানোর সময় চামড়ার গুণগত মান বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চামড়া পরিবহন ব্যবস্থাপনাতেও ভিডিপি সদস্যরা কাজ করছেন উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের সময় পরিবহন সঙ্কটের মধ্যেও স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করে দ্রুত চামড়া নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দিতে সহায়তা করছেন তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের উপস্থিতি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বলছে, দেশের ৬০ লাখ স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যের এই বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানো গেলে শুধু চামড়া শিল্প নয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার “Peoples Warfare Doctrine” ধারণার আলোকে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় এ বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিজ্ঞপ্তি



