ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তির পর করণীয় এবং পোস্টাল ব্যালট গণনা সংক্রান্ত বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসির পরিপত্রে বলা হয়েছে, পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের নিমিত্ত ডেভেলপকৃত সফটওয়্যারে রিটার্নিং অফিসার লগইন করার পর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের জন্য নিবন্ধনকৃত ভোটার সংখ্যা ও প্রদত্ত ভোটের সামগ্রিক চিত্র দেখতে/জানতে পারবেন। পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধনকৃত ভোটার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি আসনের জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার প্রতি ৪০০ ব্যালটের (ব্যালটের খাম) জন্য একটি ব্যালট বাক্স ব্যবহার করবেন। প্রত্যেক ব্যালট বাক্সের ওপর আসনের নম্বর ও নাম সম্বলিত স্টিকার যুক্ত করবেন।
ব্যালট বাক্স বন্ধকরণ : প্রতীক বরাদ্দের পর হতে অর্থাৎ আগামী ২১ জানুয়ারির পর হতে পোস্টাল ব্যালটগুলো রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছানো শুরু হবে। এ লক্ষ্যে প্রতীক বরাদ্দের দিন বা তার পরের দিন পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখতে হবে। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যালট বাক্স বন্ধ (লক) করার আগে প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টকে উপস্থিত থাকার জন্য দিন ও সময় উল্লেখ করে রিটার্নিং অফিসার লিখিত অনুরোধ করবেন। নির্ধারিত দিনে উপস্থিত সকলের উপস্থিতিতে প্রত্যেক আসনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট বাক্সের প্রত্যেকটিতে চারটি করে সিল/লক লাগাবেন। সিল/লক লাগানোর আগে প্রত্যেকটি বাক্স ও সিল/লক এর নম্বর উচ্চস্বরে পাঠ করবেন এবং উপস্থিত প্রার্থী বা নির্বাচনী অ্যাজেন্টকে তা লিপিবদ্ধ করতে বলবেন। কোন ব্যালট বাক্স পোস্টাল ব্যালট দ্বারা পূর্ণ হয়ে গেলে উক্ত ব্যালট বাক্সের ঢাকনাটি পঞ্চম লক/সিল দিয়ে বন্ধ করে তা নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।
ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট পেপার সম্বলিত ফেরত খামগুলো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক গ্রহণ ও সংরক্ষণ : ডাক বিভাগ হতে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটগুলো গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য রিটার্নিং অফিসার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করবেন। এছাড়া ডাক বিভাগ হতে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটগুলো স্ক্যানিংসহ অন্যান্য কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাপোর্টিং স্টাফ নিয়োগ দেবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালটের খামগুলো প্রাপ্তির পর তার খামের উপর প্রদত্ত QR কোড স্ক্যান করবেন। এরপর আসন ভিত্তিক নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে খামগুলো নিরাপত্তার সাথে সংরক্ষণ করবেন। কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে ফরম-১২ আকারে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ ও প্রাপ্তির আসন ভিত্তিক তালিকা সফটওয়্যার হতে জেনারেট হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিদিন সফটওয়ার হতে জেনারেটকৃত ফরমে স্বাক্ষরপূর্বক সংরক্ষণ করবেন। এছাড়া কিউআর কোড স্ক্যান করার সময় সফটওয়ারে কিউআর কোড ডুপ্লিকেট হিসেবে প্রদর্শিত হলে রিটার্নিং অফিসার ব্যালটটি বাতিল করবেন। এক্ষেত্রে খামটি না খুলেই অন্যত্র সংরক্ষণ করবেন। কিউআর কোড স্ক্যানের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় স্ক্যানিং সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশন হতে সরবরাহ করা হবে।
ভোটার কর্তৃক কিউআর কোড স্ক্যান না করা হলে : প্রত্যেক ভোটারকে পরিপ্রেরিত ভোটদান নির্দেশিকা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটের খাম প্রাপ্তির পরপরই ভোটাররা পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপ এ লগইন করে খামের ওপর প্রদত্ত কিউআর কোডটি স্ক্যান করবেন। স্ক্যানের ক্ষেত্রে ভোটারের লাইললিনেস যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে। এতে ভোটার যে ব্যালট পেপারটি হাতে পেয়েছেন তা সিস্টেমে শনাক্ত হবে। কিন্তু ভোটার যদি খামের ওপর কিউআর কোড স্ক্যান না করেই ভোট প্রদান করে খাম ফেরত পাঠায় তাহলে তা স্ক্যানের সময় সিস্টেমে শনাক্ত হবে না। ফলে ওই ব্যালটটি বাতিল বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে খামটি না খুলেই অন্যত্র সংরক্ষণ করবেন এবং এর হিসাব রাখতে হবে।
পোস্টাল ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা : ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ডাকযোগে আগত পোস্টাল ব্যালটগুলো গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে। ওই সময়ের পরে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটের খাম স্ক্যান না করে এবং গণনা কাযক্রমের আওতায় না এনে বাতিল হিসেবে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
গণনা কার্যক্রমের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ : পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য রিটার্নিং অফিসার আসন ভিত্তিক একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করবেন। এছাড়া প্রাপ্ত ব্যালটের ভিত্তিতে প্রতি ১০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একজন পোলিং অফিসার এবং প্রতি ১৫ জন পোলিং অফিসারকে সমন্বয়ের জন্য একজন করে সহায়ক কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন।
পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ : পোস্টাল ভোট গণনার সময় প্রার্থী/নির্বাচনি এজেন্ট/পোলিং অ্যাজেন্ট, গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষকগণ অন্যান্য কেন্দ্রের ন্যায় একই নীতিমালা অনুসরণে উপস্থিত থাকতে পারবেন। রির্টার্নিং অফিসার কবে, কখন ও কোথায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসনের পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা করা হবে সে বিষয়ে প্রার্থী/ নির্বাচনী অ্যাজেন্টকে আগেই পত্র প্রেরণ করে অবহিত করবেন এবং ওই গণনা কার্যক্রমে প্রার্থী নিজে বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা তার পোলিং অ্যাজেন্টকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করবেন।
পোস্টাল ব্যালট গণনা কার্যক্রম : পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বা অন্য কোন সুবিধাজনক স্থানে আসন ভিত্তিক গণনা কক্ষ প্রস্তুত করতে হবে। গণনার ক্ষেত্রে-ক) ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার পরপর-ই প্রিজাইডিং অফিসারগণ স্ব স্ব আসনের পোস্টাল ব্যালট ভর্তি বাক্সগুলো রিটার্নিং অফিসারের নিকট হতে বুঝে নেবেন।
খ) আসন ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার তার আসনে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা/বিবরণী সম্পর্কে গণনার সময় উপস্থিত প্রার্থী/নির্বাচনী অ্যাজেন্ট/ পোলিং অ্যাজেন্ট, গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকগণকে বিস্তারিত জানাবেন। তারপর ওই আসনে পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত সকল ব্যালট বাক্স খুলবেন। বাক্স খুলে পোলিং অফিসারগণ প্রথমে ফেরত খামগুলো এক জায়গায় ঢালবেন তারপর এক এক করে খুলবেন।
ভোট গণনার বিবরণী প্রস্তুত, প্রকাশ ও সরবরাহ : প্রিজাইডিং অফিসার পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা শেষ হলে সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ন্যায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ফরম-১৬ ক-তে এবং গণভোটের ফলাফল ফরম-৪ এ লিপিবদ্ধ করে এর কপি প্রকাশ করবেন এবং গণনার সময় উপস্থিত প্রার্থী/ নির্বাচনী এজেন্ট/ পোলিং অ্যাজেন্টকে সরবরাহ করবেন।
রিটার্নিং অফিসার, তার অধীন সহকারী রিটার্নিং অফিসারগণ কর্তৃক প্রেরিত সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব ঘোষণা ও অন্যান্য কেন্দ্রের ফলাফলের সাথে একত্রিকরণ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য (ফরম-১৮) তে এবং গণভোটের জন্য (ফরম-৭) এ চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবেন।
এ বিষয়ে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বলেন, বেশিভাগ পোস্টাল ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পৌঁছে গেছে। প্রবাসীরা ভোট দিয়ে পোস্টাল ব্যালট পোস্ট অফিসে জমা করছেন। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোট ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। বাসস



